• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
ফরিদপুরে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’তে এক পুত্রহারা পিতার আহাজারি

নিরঞ্জন মিত্র ( নিরু) ( ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি)“যে বাবা’র সন্তান হারায়, সে বাবাই বুঝে তার বেদনা! নিজ সন্তানের লাশ কাঁধে করে কবরে রেখে এসেছি। এই বৃদ্ধ বয়সে পরিবারের উপার্জনক্ষম নিজ সন্তানকে হারিয়ে নাতি-নাতনি নিয়ে অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করে আসছি।” কথাগুলো বলছিলেন, একজন মৃত্যুবরণকারী পুলিশ কর্মকর্তার ভগ্নহৃদয়ের বাবা। এ সময় তিনি তার ছেলের এতিম সন্তানদের পাশে দাড়ানোর জন্য পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সোমবার (১লা মার্চ) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের হলরুমে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে জেলা পুলিশ আয়োজিত “কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে সম্মাননা প্রদান, দোয়া ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মাদারীপুরের রাজৈর থানার সাবেক এস.আই. মনির হোসেনের বাবা ফরিদপুর সদরের আব্দুস সালাম মোল্যা। তার সন্তান এস.আই মনির হোসেন রাজৈর থানায় দায়িত্বপালনকালে ২০১৭ সালে অকাল মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়া এ অনুষ্ঠানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী বা সন্তানকে হারিয়ে অসহায় জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেন এবং বিভিন্নদাবী উপস্থাপন করেন অনেকে।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান সভাপতিত্বকালে সকলের দাবিগুলো পুলিশের নীতিনির্ধারক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, যখন একজন পুলিশ দায়িত্বে থাকে তখন তিনি নিজের জীবনকে না ভেবে একটি চিন্তা করে, কীভাবে মানুষের জীবন বাঁচানো যায়। শীত, বর্ষা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ উপেক্ষা করে সে মানুষের সেবায় ঝাপিয়ে পড়ে- কখনো হারাতে হয় তার মূল্যবান জীবনটাকে।
তিনি আরো বলেন, সময়ের পরিক্রমায় পুলিশ বাহিনী আজ উন্নত, চিন্তা ও কল্যাণমূলক পর্যায়ে পৌছেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি মহোদয় কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক জেলায় একটি হাসপাতালও নির্মাণ হচ্ছে। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয় মৃত্যুবরণকারী পুলিশের অসহায় পরিবারের সকল সমস্যা নিরসনে কাজ করবে। প্রতিটি মৃত্যুবরণকারী পুলিশ পরিবারের জন্য ফরিদপুরের ৯টি থানা ও আমার কার্যালয় সবসময় খোলা। আপনারা যেকোনো সমস্যায় চলে আসবেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামাল পাশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান (মধুখালী সার্কেল), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, ডিবি ওসি সুনীল, সালথা থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত প্রমুখ। এছাড়া পুলিশ সদস্য (আর ওয়ান) আনোয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় মৃত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, গোপালগঞ্জে দায়িত্বরত থাকাকালীন মৃত্যুবরনকারী পুলিশ সদস্য আজাদ মিয়ার স্ত্রী শিউলি বেগম ও মানিকগঞ্জে দায়িত্বরত থাকাকালীন মৃত্যুবরনকারী পুলিশ পরিদর্শক গোলাম আম্বিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার টিয়া। এ সময় তারা তাদের পরিবারের এবং সন্তানদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। দাবিগুলো মধ্যে ছিলো, প্রত্যেক মৃত্যুবরণকারী পুলিশ পরিবারে একটি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেওয়া, মৃত পুলিশের ছেলে সন্তানদের সুযোগ-সুবিধা ও রেশনের ব্যবস্থা, পুলিশ সদস্যদের ফিটনেস চেকআপের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা, পুলিশ সুরক্ষা প্রকল্প গঠণ করা।

অনুষ্ঠান শেষে আইজিপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে ২০২০ সালে মৃত্যুবরণকারী ৭ জন পুলিশ পরিবারের মাঝে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ডিনারসেটসহ উপহার সামগ্রী এবং ফরিদপুর পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ৩১ জন মৃত পুলিশ সদস্য পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী তুলে দেন পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান।
এছাড়া মৃত্যুবরণকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন পুলিশ লাইনস জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ ফেরদাউস রহমান।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।