• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
রাজশাহীতে গণতন্ত্র ফিরে আসবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে

মোঃ আলাউদ্দিন মন্ডল রাজশাহী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, গণতন্ত্র বারবার জীবিত হয়, আর এই গণতন্ত্র ফিরে আসবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, তাই আগামীতে আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জিয়াউর রহমান কারো করুণায় নয়, বাংকারে যুদ্ধ করেই বীরউত্তম উপাধি পেয়েছিলেন। আগামীতে তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হবে।
বিএনপি নেতা টুকু প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল মিটিং প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার জীবন স্বার্থক, আমি বাঙালি জনতার কাছে তাদের গণতন্ত্র ফেরত দিয়েছি।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনাকে কেন জনগণের ওপর নির্ভর না করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের কর্মচারি পুলিশ অফিসার, ডিসিদের ওপর নির্ভর করতে হয়? তাহলে কি আপনার গণতন্ত্রের ডেফিনশন পরিবতন হয়ে গেল?”প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে টুকু বলেন, “আপনি বলেন, ‘আমি উন্নয়ন করেছি, উন্নয়ন করেছি’। আপনি উন্নয়ন করেছেন, সেই জন্য তো ফরিদপুরের ছাত্রলীগের সভাপতি দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। একটা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যদি এত টাকা পাচার করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী, আপনার রাঘব বোয়ালরা কত টাকা পাচার করেছে বাংলাদেশের মানুষ সেই হিসাব চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজশাহীর এই সমাবেশ করতে চাইলাম মাদ্রাসা মাঠে। কিন্তু আপনি এটিকে সংকোচিত করে নাইস কনভেনশন সেন্টারে করতে দিলেন। আপনি হয়তো ভেবেছেন, বিএনপির সমাবেশে লোক হয় না। আপনি নাকি ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছেন, আপনার ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে দেখেন সমাবেশে লোকে লোকারণ্য।
তিনি বলেন, ‘আমি সকালে যখন রাজশাহীতে নামলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাস্তাঘাট যেমন ফাঁকা ছিল, রাজশাহীর অবস্থা ঠিক তেমন দেখলাম। কীসের ভয়। আপনি তো গণতন্ত্র দিয়ে দিয়েছেন। তারপরও কিসের এতো ভয়?সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘ফেরাউনসহ সবার পতন হয়েছে। আপনারও পতন হবে এই রাজশাহী থেকে। বাংলাদেশে ৫২ তে রাজপথে ফায়সালা হয়েছে। ৫৪ থেকে ৬৯ রে রাজপথে ফায়লাসা হয়েছে। ৯১ এ রাজপথে ফায়সালা হয়েছে। প্রস্তুত হন এই রাজপথে ফায়সালা হবে। গণতন্ত্র হারিয়ে যাওয়া জিনিস না, কারো পকেটের মোয়া না। গণতন্ত্র বার বার জীবিত হয়।’পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ঝাপিয়ে পড়েছিলো। কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেখছি সেই পুলিশ বাহিনী আর আজকের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কোনো মিল নাই। তখনকার পুলিশ বাহিনী ছিল বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের অগ্রসৈনিক। ২৫ তারিখ রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সিপাহীরা।

আজকে বাংলাদেশের পুলিশ একটা দলের কর্মী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন এমপি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আওয়ামীলীগ প্রার্থী কয়েক হাজার ভোট পায়, আর বিএনপি প্রার্থী পায় মাত্র ৯৮ ভোট। এটি কি আদৌ সম্ভব? মানুষ বুঝে। কাজেই এই সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন নয়।’এমপি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাকে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসতে বেশ কয়েকবার বাঁধা দেওয়া হয়েছে। আমি পুলিশ বাহিনীকে বলেছি, ‘আমাকে গ্রেফতার করুন, তা না হলে যেকোন ভাবেই আমি সমাবেশে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, আমি আসার সময় দেখলাম রাজাবাড়িতে শতশত অটোরিকশাকে আটকে দেওয়া হয়েছে। যারা চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে আসতে চেয়েছিলো, তারা শেষ পর্যন্ত আসতে পারেনি।’

সাবেক মেয়র সাদেক হোসের খোকা’র ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের নামে দেশে কী হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে একটা আনন্দঘন ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তার পরিবর্তে দেশে এই অনির্বাচিত সরকার গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ, মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ, ভোটের অধিকার হরণ করেছে। মানুষের এসব অধিকার ফিরিয়ে আনতে আজ আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আন্দোলনের বার্তা নিয়ে এসেছি।

ইশরাক হোসেন আরো বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে কালো আইন করেছে সরকার। জিয়াউর রহমানের খেতাব নিয়ে সরকার তামাশা করছে। আজ বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরকারের ক্ষমতায় নাই। তাই এই অবৈধ সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার ও হারুন অর রশিদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) এডভোকটে এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহীন শওকত ও ওবায়দুর রহমান চন্দন, রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সহিদুন্নাহার কাজী হেনা।

আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক শাহাদাত হোসেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।