• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং
করোনা রোগীর সুস্হতার সংখ্যা বাড়ছে

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৮২ জন। প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫২৮ জন হলো। বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৮৩৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ১১ হাজার ১৬ জন হয়েছে। বুধবার বিকালে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

জনস হপকিনস বিশ^বিদ্যালয়ের তালিকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বিশে^ বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫তম স্থানে। আর মৃতের সংখ্যায় বাংলাদেশ রয়েছে ২৯তম অবস্থানে। দেশে করোনার প্রকোপ না কমলেও স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলাফেরা করছেন সবাই। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বেশিরভাগ মানুষ। ঢাকা ফিরেছে তার চিরচেনা রূপে। চায়ের দোকানগুলোয় বসা কারও মুখে মাস্ক থাকে না। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে সরকারকে আরও কঠোর হতে বলছেন তারা।
এদিকে করোনা চিকিৎসায় সারা দেশে সাধারণ শয্যা আছে ১৪ হাজার ৪৭৪টি এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আছে ৫৫০টি। এর মধ্যে সাধারণ শয্যা খালি আছে ১০ হাজার ৬২৯টি এবং আইসিইউ খালি আছে ২৪৪টি। অর্থাৎ সারা দেশে ৭৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ সাধারণ শয্যা এবং ৪৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ আইসিইউ শয্যা খালি আছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ৮০ ভাগই সাধারণ শয্যা খালি আছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ২৬৬টি। সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ২ হাজার ১৩২ জন। শয্যা খালি আছে ৪ হাজার ১৩৪টি। ঢাকা মহানগরীতে আইসিইউ শয্যা ৩১০টি, রোগী ভর্তি আছেন ১৮৫ জন, খালি আছে ১২৫টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে শয্যা আছে ৭৮২টি, ভর্তি আছেন ১৫২ জন, খালি আছে ৬৩০টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইসিইউ শয্যা ২০১টি, ভর্তি আছেন ১০২ জন, খালি আছে ৯৯টি।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৩টি ল্যাবে ১৫ হাজার ২০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩, নারী ১২ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ২২ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন করে মোট ৮ জন চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ৩ জন রাজশাহী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪ হাজার ৩৫১ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৪০৮ জনই পুরুষ এবং ৯৪৩ জন নারী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১৫৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১ হাজার ১৮৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫৮০ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৬৪ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১০৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩৬ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ২ হাজার ১০৫ জন ঢাকা বিভাগের, ৯৪৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২৯১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩৬৩ জন খুলনা বিভাগের, ১৬৯ জন বরিশাল বিভাগের, ১৯৪ জন সিলেট বিভাগের, ১৯৪ জন রংপুর বিভাগের এবং ৯২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, ২৬ আগস্ট তা ৩ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ২৫ আগস্ট সেই সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। বিশে^ এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ৫৭ লাখ পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৮ লাখ ৫৭ হাজারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৫৮৯ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৭২ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৭২ হাজার ৫৫২ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫২ হাজার ৫৯৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ জন।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ^কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসে বিশ^জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৫৯ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৮ লাখ ৬১ হাজারের বেশি। তবে ১ কোটি ৮২ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হয়েছিল ১৮ মার্চ।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।