• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
করোনায় হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা দ্বিগুণ বেড়েছে

করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে সবচেয়ে জোর দেওয়া হয়েছিল সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানলেও হালে এ দিকে নজর কম অনেকের। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা দ্বিগুণ বেড়েছে।

বিষয়টি নজরে এনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

সেখানে বলা হয়— মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব, সেলফ আইসোলেশন এ সবের ভিড়ে এই সহজ অস্ত্রটির কথা আমরা ভুলে যেতে বসেছি।
দিনের পর দিন সংবাদ বুলেটিনে, খবরের কাগজের পাতায়, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছিল- সাবান ও গরম পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ভালো করে হাত ধুতে হবে। কিন্তু লকডাউন যত শিথিল হচ্ছে, যত সব কিছু খোলা হচ্ছে, তত ফেইস মাস্ক পরা বা মুখ ঢাকা রাখার গুরুত্বটা বেশি করে সামনে আসছে। এ সব পরামর্শের ভিড়ে ভাইরাস ঠেকানোর আদি মূলমন্ত্র কি হারিয়ে যেতে বসেছে?

মোটেই না! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। কারণ মানুষ এখন আগের মতো ঘরবন্দী নেই। অনেক মানুষ বেরোতে শুরু করেছে। ফলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসের চলাচলও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের বোস্টনে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রসায়ন ও জৈব রসায়নের অধ্যাপক টমাস গিলবার্ট জানান, করোনাভাইরাসের যে রাসায়নিক গঠন তাকে ভাঙতে সবচেয়ে কার্যকর সস্তার সাবান এবং গরম পানি।

তিনি বলেন, “এই ভাইরাসের বাইরে যে আবরণ থাকে, যেটি জীবাণুর জেনেটিক কণাগুলোকে ঘিরে রাখে সেটাকে বলা হয় লিপিড মেমব্রেন।

এই আবরণ তৈলাক্ত ধরনের। যাবে সাবান ও পানি গলিয়ে দেয়। ”
ভাইরাসের কোষগুলোকে খামের মতো ঘিরে রাখে যে আবরণ, সেই আবরণটা ভেঙে দিতে পারলে জীবাণুর কোষগুলো আর এক জোটে থাকতে পারে না, সেগুলো ভেঙে পড়ে আর সঙ্গে সঙ্গে তার জিনের উপাদানগুলোও কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই জিনগত উপাদানই মানুষের দেহকোষকে আক্রমণ করে থাকে, এবং কোষের মধ্যে বংশ বৃদ্ধি করে ছড়াতে থাকে। ফলে ওই আবরণটা নষ্ট করতে পারলে ভাইরাসকে অক্ষম করে দেওয়া সম্ভব।

টমাস গিলবার্ট বলেন, “হাত ধোয়ার সময় কম করার ব্যাপারে কোনোরকম পরামর্শ এখনো দেওয়া হয়নি। কাজেই হাত ভিজিয়ে নিয়ে সাবান মাখিয়ে দু হাতে ভালো করে ফেনা তৈরি করতে হবে। তারপর বিশ সেকেন্ড ধরে সেই সাবান দিয়ে হাতের প্রতিটা অংশ ভালো করে ডলে ধুতে হবে। প্রতিটা খাঁজ, ভাঁজ নখের চারপাশ সব অংশ সাবানের ফেনা দিয়ে ঘষে ধুতে হবে। ”

আরও বলেন, “তৈলাক্ত আবরণকে ভাঙার জন্য যে রাসায়নিক ক্রিয়ার প্রয়োজন তা সম্পন্ন হতে বিশ সেকেন্ড সময় লাগে। জীবাণুর শেষ অংশটুকু হাত থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য সাবানকে তার কাজ করতে এই সময় দিতে হবে এবং অল্প গরম পানি এই সাবান ধুয়ে ফেলতে কাজ করবে। ”

সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার কার্যকারিতার বিষয়টা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার কারণে। হাত জীবাণুমুক্ত করার এই রাসায়নিক ছোট বোতলে করে এদিক-ওদিক নিয়ে যাওয়া সহজ। দোকানে বাজারে যে কোন জায়গায় এর ব্যবহার অনেক সুবিধাজনক। তাই মানুষ এই স্যানিটাইজারের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

টমাস গিলবার্ট বলেন, “এ ধরনের হ্যান্ড স্যানিটাইজার হয়তো আপনি গাড়িতে রাখতে পারেন, বা আপনার ঘরে ঢোকার দরজার মুখে রাখলেন, অথবা ব্যাগে বা পকেটে রাখলেন, যেখানে সাবান বা পানি পাওয়া যাবে না সেখানে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু যেখানে সাবান আর পানি আছে, সেখানে সাবান আর পানির ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো বলে আমি মনে করি। ”

মহামারি শুরুর সময় প্রথমদিকে ব্রিটেনের সরকারের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছিলেন কয়েক ঘণ্টা পর পর হাত ধুতে, যদিও সে সময় বেশির ভাগ মানুষই লকডাউনের কারণে ঘরের ভেতরেই থাকছিল। গিলবার্ট বলছেন, যারা মূলত ঘরের ভেতর থাকেন তাদের এত ঘন ঘন হাত ধোয়ার প্রয়োজন নেই। তবে টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার তৈরির আগে ও খেতে বসার আগে অবশ্যই সবার হাত ধোয়া উচিত।

কেউ যদি কভিড-১৯এ কিংবা অন্য যে কোন ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সেবা বা পরিচর্যা করেন, তাহলে তাদের ঘন ঘন হাত ধুতে হবে। বিশেষ করে যদি তারা আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ করা কোন জিনিস ধরেন অথবা এমন কোন জিনিসের ওপর আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিয়েছেন, যেটা তিনি হাত দিয়ে ধরেছেন তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে হাত ধোয়া দরকার।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

নভেম্বর ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« অক্টোবর  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।