• ঢাকা
  • বুধবার, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
ভালোবাসার বন্ধন চির অম্লান থাকুক শিক্ষক আজমল চত্বরে

ছবিতে আজমল চত্বরে বসে আছেন শিক্ষক ও সাংবাদিক রেজাউল করিম

ভালোবাসার বন্ধন চির অম্লান থাকুক শিক্ষক আজমল চত্বরে
——————————————
।রেজাউল করিম।।
——————————————
যে জায়গায় বসে আছি সেটি মেহগনি গাছ আচ্ছাদিত এক গোলচত্বর। এটা ফরিদপুর রেল স্টেশন।

এখানে বসার জায়গাটিতে বসে ফোন করে আমার জন্য অপেক্ষা করতো আজমল।

আমি আসতাম। ফোন করে আলমগীরকে ডাকতাম।
একে একে জুটে যেতো বাংলার
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক চৈতন্য,ফজলু,শাহীন ভাই । কখনসখনো মাসুদ স্যার আসতেন সিদ্দিক স্যার, কামাল স্যারসহ জ্ঞানীগুণী অনেকেই।

আসেন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী বাদল দাস, স্বেচ্ছাসেবক লীগের রকিবউদ্দিন মাসুম।

ছুটি পেলে আসেন সাংবাদিক ও লেখক মহসীন হাবিব তার বন্ধু সুজল চক্রবর্তী (প্রয়াত ) ফুসরত পেলেই এসে সংগ দেন সাংবাদিক সেবানন্দ বিশ্বাস।

জায়গাটি মেহগনি গাছের সবুজ পাতায় নয়নসভিরাম।পেছনে আছে একটি বটগাছ।

আমরা নাম রেখেছিলাম মেহগনির বটমূল।

গরমে এখানে শীতল ছায়া আর
ফুরফুরে বাতাস। চন্দ্রিমা রাতে আলোকময় হয়ে দ্যুতি ছড়ায় সব মান্যজনদের নিষ্কলুষ বদনে।

আর ঘোর অমাবস্যায়ও আমি বসে অপেক্ষায় থাকতাম আজমলের জন্যে।

আসতেন সাংবাদিক ও লালন গবেষক মাহফুজ মিলন ভাই, ব্যাংকার বাবু ভাই, আমার প্রিয় নানাভাই আজাদ আমির ,ড.সিদ্দিকুর রহমান।

ঠিক সামনেই জেলা শিক্ষা অফিস, পূর্ব দিকে আফজাল কাকার চায়ের দোকান,পাশে মুন্নছের খোলা রিকশা গ্যারেজ
পশ্চিমে মসজিদ। পেছনে সুজনের কফি স্টোর।

ঝড় হোক বৃষ্টি হোক এখানে যে আসতেই হবে। দেখা করতে হবে আমাদের।

এটা যেন আমাদের সকল স্বজনদের এক খোলা হাওয়ার কাচারিঘর।গল্প, আড্ডা, গান, আবৃতিতে জমে উঠতো প্রায়ই।

শবে বরাত, ঈদ, পূজা, বড়দিন সব উপলক্ষেই এটা আমাদের
অঘোষিত আড্ডাস্থল।

জয়ন্ত, অমরদা, পল, রতন,বাবু গোল হয়ে বসতাম আমরা। চারিদিকে খন্ড খন্ডভাবে বসেন এলাকার ছোট ও বড় ভাই ও মুরব্বীগন।

যতরাত হতো আড্ডা জমে যেতো। নির্মল আড্ডা।

সাহিত্য, শিল্প, সমকালীন রাজনাতি নানা ভাবনায় খোরাক জুটে এখানে।

জায়গাটিতে দিনের বেলায় সপ্তাহন্তে কবুতরের হাট বসে। রাতে বসে তারার মেলা।

এ মেলার আসর থেকে বিদায় নিয়েছে আলমগীর ও আজমল। তারা চলে গেছেন আকাশের নীলিমায়। জীবনের নৌকা ডুবিয়ে ভেসে গেছেন পরপারে। এখানের আকাশ বাতাস ভারী সে ক্রন্দনে।

২৫ টি বছর আমি সময় পার করেছি আজমলের সাথে। রাজেন্দ্র কলেজ ম্যাথমেটিকসে পড়ার সময় আজমল ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ভিপি পদে ইলেকশন করেছিলো প্রায় দুদশক আগে। তার আগে থেকেই আমার সাথে আজমলের পরিচয়। পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতার বাড়াবাড়ি। টের পাচ্ছি হাড়ে মজ্জায় পল পলে।

সংগের সাথী সনাতন, শিল্পী, দিদার,রিজভী, সুমন,শামীমসহ অনেকেই জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় চাকরি করেন ঠিকই কিন্তু ফরিদপুর এলেই ঐখানে এসে খুঁজে ফিরেন আমাকে। এবার খুঁজবেন আজমল ভাইকে। তবে পাবে না তারা।

ফেলবেন অশ্রুবিন্দু আজমল ভাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত গোল চত্বরের এই বেদিতে।

কাল দেখলাম আজমলের ভালোবাসার সংগঠনের ছেলেরা সেখানে লাল কালিতে লিখে দিয়েছে “শিক্ষক আজমল চত্বর।” কৃতজ্ঞতা জানাই ছাত্র ইউনিয়ন এর স্বজনদের যারা এ উদ্যোগের অনুমতি নিয়েছেন হৃদয়র গভীর থেকে।

স্থানীয় মান্যজনেরা একজন শিক্ষকের প্রতি সম্মানের এ স্মৃতিটুকু অমিলন রাখবেন নিশ্চয়। আর আমি তার সম্মান রক্ষা করবো বুক চিতিয়ে।

আমি একা বসে আসি এখানে। আমার পাশে আলমগীর নেই, আজমল নেই।

রাতে গুণীজনেরে মেলার প্রাঙ্গণ মুখরিত হবে চা কফির পেয়ালায় বিষাদময় চুমুকে চুমুকে আর মনে পরবে আক্স্মিক নৌডুবিতে নিহত হতভাগ্য দুই শিক্ষককে। সইসাথে অন্তরেরর অন্তস্থলে বাজবে হারানো দিনে সেই চিরচেনা সুর
“কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই…
কোথায় হারিয়ে গেলে সোনালী বিকেলগুলো আজ আর নেই।”

জানি, লাল রংয়ের কালিগুলো মুছে যাবে সময়ের পরিক্রমায় তবে হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকবে
শিক্ষক আজমল চত্বর।

মান্যজন ও গুণী শিক্ষকবৃন্দ মিলিত হোক মানবতার প্রেমের শিক্ষক আজমল চত্বরে।

রেজাউল করিম, শিক্ষক ও সাংবাদিক, ফরিদপুর,ঢাকা।
৮ আগস্ট, ২০২১।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

মে ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« এপ্রিল  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১