• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
সালথা’য় করোনা প্রতিরোধে সফল তারা

মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: বাংলাদেশে প্রথম করোনা সনাক্তের দুই মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এই সময়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলাকে করোনামুক্ত রাখার সংগ্রামে সবার সম্মিলিত প্রয়াস ছিল লক্ষ্যণীয়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, মাননীয় সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াদুদ মাতুব্বর এর প্রত্যক্ষ পরামর্শে উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির নিয়মিত সভার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, শুরুতে সালথায় প্রায় ১২৪ জন প্রবাসীদের বাড়িতে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ টিম, উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক টিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিমের মাধ্যমে লাল ফ্লাগ দিয়ে চিহ্নিতকরণ ও স্টিকার স্থাপন।
সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার, বাজারে বাজারে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, মসজিদে মসজিদে ঘোষণা ইত্যাদি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আর্মি, র‍্যাবের নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ও অত্যাবশকীয় পণ্য ব্যতিত অন্যান্য দোকানপাট বন্ধে সালথার আনাচে-কানাচেতে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সালথার প্রধান প্রধান বাজারগুলো নিকটবর্তী মাঠে বা খোলা স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হটলাইন চালুকরণের মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০টি আসন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের জন্য পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ থেকে সাধারণ জনগণের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার সাবান বিতরণ, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বিভিন্ন বাজারে বাজারে জীবানুনাশক ছিটানো হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে আল্লাহ না করুক কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাদের গোসল, জানাযা ও দাফনকাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ কাজের জন্য উপজেলার প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের তদারকির দ্বায়িত্ব পালন করছেন। প্রকৃত অসহায় মানুষদের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাইকরণের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাঠ সহকারীবৃন্দের প্রায় ৪০ জনের একটি টিম সালথা উপজেলার প্রায় একুশ হাজার পরিবারের দ্বারেদ্বারে গিয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউপি সচিব, গ্রাম পুলিশরা দিনরাত অমানুষিক পরিশ্রম করে নিজ নিজ ইউনিয়নের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিরলসভাবে সম্পাদন করে যাচ্ছেন। কারো মাঝেই করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীগণ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সব নেগেটিভ রেজাল্ট। আন্তঃজেলা চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেক পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

সাধারণ জনগণের অব্যাহত সহযোগিতা ছাড়া এই দুই মাসে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব ছিল না। তবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। যেকোন মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ হতে পারে। তাই এই প্রতিরোধের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে এবং অন্যকে সুস্থ রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

৭ মে ২০২০

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ফেব্রুয়ারি ২০২৩
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জানুয়ারি  
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।