• ঢাকা
  • বুধবার, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
চীনকে ঠেকাতে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-অস্ট্রেলিয়া-ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের আধিপত্য খর্ব কমতে টোকিওতে দুই দিনের বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

বিবিসি বাংলা জানায়, দুই মহাসাগরে নৌ চলাচল অবাধ ও স্বাধীন রাখার উপায় খুঁজতে এ চার দেশ  ২০০৭ সালে কোয়াড নামে এ সংলাপ শুরু করেছিল। ১০ বছর পর সেটি নতুন করে জীবন ফিরে পেতে যাচ্ছে টোকিওতে।

সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা বিপজ্জনক উত্তেজনার মধ্যে এ বৈঠক হতে যাচ্ছে।

চীন তাদের প্রধান বৈরী এই চারটি দেশের মধ্যে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক নিয়ে যে একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। কোয়াডের এই বৈঠক চলার সময় দুই দিন একই সঙ্গে তিন থেকে চারটি নৌ এবং বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

কোয়াডের চারটি সদস্য দেশের মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে – কিন্তু চীনকে আটকাতেই যে এই জোটবদ্ধ উদ্যোগ, পরিষ্কার করে তা কখনই বলা হয়নি।

এমনকি এসব বৈঠক নিয়ে এই চারটি দেশের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে জনসমক্ষে যেসব ঘোষণা দেয়া হয়েছে বা যেসব নথিপত্র চালাচালি হয়েছে, তার কোথাও চীন শব্দটিই নেই।

কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, টোকিও বৈঠকে তা বদলে যেতে পারে। কারণ যে দেশটি এই প্লাটফর্মকে প্রকাশ্যে ‘চীন-বিরোধী‘ তকমা দিতে সবচেয়ে বেশি কুণ্ঠিত ছিল, সেই ভারত তাদের অবস্থান অনেকটাই বদলে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড করপোরেশনের সর্বসাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যাস লিখেছেন, পরিস্থিতি এখন অন্যরকম কারণ, এই চারটি দেশের সবগুলোই এখন চীনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের প্রশ্নে একমত।

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে কোয়াড প্লাটফর্মকে একটি প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল চীনকে নিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার আড়ষ্টতা। চীনকে কতটা কোণঠাসা করা উচিত, তা নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিধা ছিল।


তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা সবাই একমত। বিশেষ করে আমার সব সময় মনে হয়েছে, কোয়াডে ভারত ছিল উইক লিংক। কিন্তু ভারত মনে হয় তার অবস্থান বদলে ফেলছে, এখন মনে হচ্ছে চারটি দেশই চীনের প্রশ্নে একমত। ’

ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কোয়াডের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহী। ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে বিরোধ এবং জুন মাস থেকে লাদাখ সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে ভারতের অবস্থান কট্টর হয়েছে।

গ্রসম্যাস বলেন, ‘এমনকি চীনের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখা নিয়ে ভারতে যারা সব সময় সোচ্চার ছিলেন, তারাও তাদের অবস্থান শক্ত করছেন। ’

গত দশকের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার একটি বন্দরে চীনা সাবমেরিনের উপস্থিতি তাদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়।

পাশাপাশি, পাকিস্তানকে চীনের অব্যাহত সামরিক সাহায্য, পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরে চীনের নিয়ন্ত্রণ, কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে চীনের পরিকল্পনা – এসব নিয়ে ভারতে উদ্বেগের পারদ বাড়ছে।

সে কারণে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে ২০১৪ সাল থেকে চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে অনাস্থা-অবিশ্বাস বাড়ছে, তাতেই ১০ বছর বাদে আমেরিকার পক্ষে কোয়াডের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিয়ে একটি সামরিক জোট গড়তে আগ্রহী।

অনেক পর্যবেক্ষক বলেন, ‘ইউরোপের সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগ্রহ কমলেও, মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তির জবাব দিতে এশিয়ায় ন্যাটো ধাঁচের একটি জোট গঠনে আমেরিকা আগ্রহী হয়ে পড়েছে। ’

অধ্যাপক ডেরেক গ্রসম্যান মনে করেন, মূলত ভারতের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তনে সে সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।

তবে শুধু ভারত নয়, কভিড মহামারি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক তদন্তের এক প্রস্তাব দেওয়ার পর তাদের সঙ্গেও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস এবং বার্লির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। অস্ট্রেলিয়ান মদ এবং আরো পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কথাও বিবেচনা করছে তারা।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের বাকি দেশগুলোকে গুয়ামে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ একটি বিমান মহড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাছাড়া, আন্দামানের কাছে গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারতের যে নৌ-মহড়া হচ্ছে, তাতে সামনের বছর অস্ট্রেলিয়াও যোগ দেবে।

চীন ২০০৭ সাল থেকে এই চারটি দেশের মধ্যে দহরম-মহরমকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

টোকিওর বৈঠক নিয়ে দু’দিন আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো একটি দেশকে টার্গেট করে কোনো জোট তৈরি একেবারেই কাম্য নয়।

চীনা মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘অন্য একটি দেশকে টার্গেট করে, তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে, আঞ্চলিক দেশগুলোর বরং উচিত নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস, বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা। ’

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« মে  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০