• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho

বেতন গ্রেড অনিয়মের অভিযোগের পরও

বহাল তবিয়তে ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারি

ফাইল ছবি

সন্জীব দাস,ফরিদপুর :– বেতন গ্রেডের সুস্পষ্ট অনিয়মের অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারি সর্দার জালাল উদ্দিন। গত ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্তে বেতন স্কেলের ১৬ তম গ্রেডের ক্যাশিয়ার থেকে সরাসরি পদোন্নতি না নিয়ে দুই ধাপ অতিক্রম করে ১৩ গ্রেডের বেতন স্কেলে নিজ বেতনে পদায়ন দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।

তার বিরুদ্ধে তদন্ত রির্পোটের প্রতিবেদন সূত্রে আরো জানাযায়, ১৯৯৪ সালের মে মাসের ২ তারিখে বেতন স্কেলের ১৬ গ্রেডের ৯০০ টাকার স্কেলে উন্নয়ন খাতে সর্দার জালাল উদ্দিন ক্যাশিয়ার পদে ভোলা জেলার সদর হাসপাতালে যোগদান করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে একটি নারী ঘটিত বিষয় সহ নানা অভিযোগ উঠলে তদন্ত শুরু হয়। এই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় তৎকালিন মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আঃ সালামকে। তিনি সরোজমিনে তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেন তাহাতে তিনি সর্দার জালাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে সরাসরি বেতন গ্রেডের অনিয়মের অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন সর্দার জালাল উদ্দিন ১৬ গ্রেড হইতে ১৪ গ্রেডে পদোন্নতি পাইবার পর লিয়েন সৃষ্টি মাধ্যমে নির্ধারিত চাকুরীকালিন পূর্ন হইলে ১৩ গ্রেডে পদোন্নতি হয়। সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারি পদটির বেতন স্কেল ১৩ গ্রেডের, যাহা ১৪ গ্রেড(যাহা ১৯৮৫ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী) হইতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরন যোগ্য। কিন্তু সর্দার জালাল উদ্দিন ১৬ গ্রেড হইতে ১৪ গ্রেডে পদোন্নতি না দিয়া সরাসরি ১৩ গ্রেডের বেতন স্কেলে নিজ বেতনে পদায়ন দেয়া হয়েছে বলে তিনি তার তদন্তে উল্লেখ করেন।
তার চাকুরী বহিতে দেখা যায়, বেতন স্কেলের ১৬ গ্রেডে উন্নয়ন খাতে ক্যাশিয়ার হিসাবে যোগদান করেন এবং উন্নয়ন খাতের চাকুরী কালকেও গননা করিয়া ১৫ বৎসর চাকুরী পূতির্তে ৩য় টাইম স্কেল পাইয়া বেতন স্কেল ১৩ গ্রেডে উপনিত হইয়াছেন। তিনি কোন পদোন্নতি পান নাই বলে তদন্ত রির্পোটে উল্লেখ রয়েছে। (যদিও বর্তমানে তিনি বেতন স্কেলের ১১ তম গ্রেডের বেতন পাচ্ছেন।)
এই তদন্ত রির্পোটে বেতন গ্রেডের অনিয়মের সুস্পষ্ট অভিযোগ করা হয়। এরপরও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন চাকুরীর বিধিমালা লঙ্গন করে বলে অভিযোগ উঠেছে গত চার বছর যাবত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, খারাপ আচরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয় গুলো নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। অভিযোগ রয়েছে অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি তদন্ত রির্পোটে বিষয়টি প্রমানিত হলেও তিনি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন বিগত চার বছর যাবত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, সর্দার জালাল উদ্দিন চরম খারাপ লোক। তার আচরনে আমরা কর্মচারীরা অতিষ্ট থাকি। তিনি বলেন, আউট সোসিং পদে নিয়োগে তিনি টাকা নিয়ে লোক নিয়োগ দিয়েছেন। আমাদের অফিসে অনেকে আসে তার কাছে টাকা ফেরত চাইতে।

এবিষয়ে জানতে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে তদন্ত রির্পোট হয়েছে তাহা বাতিল করা হয় পরবর্তীতে। রির্পোটটি সঠিক ভাবে করা হয় নাই। তিনি বলেন আমার কাছে আদেশ বাতিল ও ১৬ গ্রেড থেকে ১৩ গ্রেডের পদোন্নতির আদেশের কপি আমার কাছে রয়েছে(তবে তিনি তা কয়েকদিন সময় নিয়েও দেখাতে পারেনি)। এখন তিনি ১১ তম বেতন স্কেল পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। তবে তাহা কোন পদোন্নতি প্রাপ্ত গ্রেড বেতন নয়।
বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, বিষয়টি যখন তদন্ত হয় সেসময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। এছাড়া তার বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। সর্দার জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোন নিয়ম আসলে আমরা তাহা যাচাই করে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও প্রশাসন হাসান ইমাম এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই বিষয়টি যখন তদন্ত হয়েছিলো তখন আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।