• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ ইং
সদরপুরে আট বছরের মাদ্রাসা ছাত্র বলৎকারে থানায় মামলা আসামী আটক

সদরপুর(ফরিদপুর)প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার মাদ্রাসা পড়ুয়া আট বছরের এক ছাত্র বলৎকারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বলৎকারে শিকার হওয়া শিশুটির মা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মটুকচর গ্রামের জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বলৎকার হওয়া শিশু কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। অপরদিকে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

শিশুটির পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বলাৎকার করে আসছে মাদ্রাসার শিশু ছাত্রকে একই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী মোঃ নাইম ইসলাম। সে মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাদান করাতেন।  বলৎকারে শিকার হওয়া শিশুটি গতকাল শুক্রবার বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হলে তার মার নিকট বিষয়টি খুলে বলে। পরে পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে জানালে অভিযুক্ত ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপর ক্ষেপে ওঠেন এলাকাবাসী। এ ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষনিক হৈচৈ পড়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে বলৎকার শিকারের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র মোঃ নাইম ইসলাম কে মারধর করে। পরিস্থিতি খারাপ থাকায় মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সাদেকুর রহমান অভিযুক্ত ছাত্রকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অভিযুক্ত মোঃ নাইম ইসলাম(১৬) জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ৭ম জামাতের শিক্ষাথর্ী। সে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বড় পাইককান্দি গ্রামের মোঃ বাবুল মৃধার পুত্র।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, কয়েকদিন ধরে হুজুর আমাকে বিভিন্ন কৌশলে বলৎকার করে আসছে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি আমার মাকে বিষয়টি জানাই। আমি কাওকে এ ঘটনা বললে হুজুর আমাকে মেরে ফেলবেন বলেও ভয় দেখান।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীর মা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আমরা এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। আমি এর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করছি। অপরাধীর সব্বোর্চ্চ শাস্তি দাবী করছি।

এ ঘটনায় মাদ্র্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। আমাকে ফোন করা হলে আমি মাদ্রাসায় আসি। আমি এ ঘটনার কিছুই জানিনা।

এ ব্যাপারে সদরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটির খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়েছি। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। প্রধান আসামীকে ধরা হয়েছে। আসামীকে ফরিদপুর কোট হাজতে পাঠানো ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মাদ্রাসা সম্পর্কে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মটুকচর  গ্রামে ২০১৭সালের দিকে জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন শৌলডুবী গ্রামের মাওলানা মোঃ সাদেকুর রহমান। এরপর থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আরবি শিক্ষার পাশাপাশি প্লে ও নার্সারী শ্রেনিতে ছাত্র ভর্তি করে আসছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে মাদ্রাসার বিভিন্ন বিভাগে ১২০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ৮জন শিক্ষক পরিচালনা করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

মার্চ ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« ফেব্রুয়ারি  
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।