• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
শরীয়তপুরে বিনাচাষে পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনে জাত ও সারের মাত্রা নিরুপণ গবেষণার উপরে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

নিরঞ্জন মিত্র ( নিরু) ( ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি)

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) অধীনে ফরিদপুর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ এর বাস্তবায়নে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার উত্তর ডুবুলদিয়া গ্রামে বিনাচাষে পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনে জাত ও সারের মাত্রা নিরুপণ গবেষণার উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে গ্রামের অগ্রবর্তী কৃষক সিকিম আলী মাতুব্বর এর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ (বারি) অঞ্চল প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ.এফ.এম. রুহুল কুদ্দুস। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক সহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

এসময় মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৫০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করে। এসময় মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিনাচাষে পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনে জাত ও সারের মাত্রা নিরুপণ গবেষণার প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন এ এলাকার কৃষকরা তাদের প্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে বিনা চাষে পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদন করে থাকেন। বর্ষার শেষে ধান কর্তনের পর পেঁয়াজ সরাসরি নরম মাটিতে পুঁতে দেয়া হয় ও কর্তিত ধানের খড় দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে বিনা চাষে পেঁয়াজ বপনের পূর্বেই সমস্ত সার কৃষক একবারেই প্রয়োগ করে থাকেন। কৃষকেরা সুপারিশকৃত সারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমান সার দিয়ে থাকে। তাই, দুই বছর সুপারিশকৃত সার ও কৃষক পদ্ধতির তুলনা করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

দুই বছরের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে শতাংশ প্রতি ১০০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১২০০ গ্রাম টিএসপি ও ৬৪০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ২৩ টন সেখানে কৃষকেরা দ্বিগুণ পরিমাণ সার ব্যবহার করেও (শতাংশ প্রতি ২১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ২১০০ গ্রাম টিএসপি ও ১৩০০ গ্রাম এমওপি) ফলন পায় প্রায় ১৯ টন। সুপারিশকৃত সারের ক্ষেত্রে ইউরিয়া দুই বার উপরি প্রয়োগ করা হয়। কৃষকেরা স্থানীয় পেঁয়াজের জাত ব্যবহার করে থাকেন। সুপারিশকৃত সার ব্যবহারে ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। এছাড়াও কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকেন।

অংশগ্রহনকারী কৃষকগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ প্রদান করেন। তাঁদেরকে সহায়তা করেন বৈজ্ঞানিক সহকারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী কৃষকগণ সুপারিশকৃত সার ব্যবহার করে বিনা চাষে পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনে কৌতুহলী হন এবং এর সুবিধা-অসুবিধা, আয়-ব্যয় ইত্যাদি সম্বন্ধে সম্যক ধারনা লাভ করেন। তারা পরীক্ষণ মাঠ পরিদর্শণ করেন ও আগামী বছর সুপারিশকৃত সার ব্যবহার করে পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।