• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ইং
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় উল্টো পথে চলছে সুইডেন

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় উল্টো পথে চলছে সুইডেন

করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশই এখন লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নাগরিকদের ওপর আরোপ করা হয়েছে কঠোর নিয়মকানুন, নিয়ম না মানলে রয়েছে শাস্তির বিধানও। তবে সুইডেনের পরিস্থিতি একদমই আলাদা। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটিতে রেস্তোরাঁ-পানশালা সবই খোলা, স্কুল-খেলার মাঠও বন্ধ নেই।
কোভিড-১৯ মহামারি ঠেকাতে সুইডিশ সরকার নির্ভর করছে জনগণের স্বাধীন ইচ্ছার ওপরেই। অর্থাৎ সরকার আশা করছে, সংক্রমণ এড়াতে দেশটির নাগরিকরা নিজেরাই দায়িত্বশীল আচরণ করবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মেনে চলবে।

সুইডেনের এই অবস্থান নিয়ে বিতর্কও কম হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বলেই বসেছেন, সুইডেন হার্ড ইমিউনিটি অনুসরণ করছে, আর এমন নীতি নেয়ার কারণে দেশটি শোচনীয়ভাবে ভুগবে।

তবে সুইডেন সরকার তাদের নীতিতে এখন পর্যন্ত অটল রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ্যন লিনডে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেছেন তা ঠিক নয়, সুইডেন মোটেও হার্ড ইমিউনিটি পদ্ধতি অনুসরণ করছে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হার্ড ইমিউনিটি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বেশির ভাগ জনগণকে ভাইরাসটি দ্বারা সংক্রমিত হতে দেয়া হয়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ছাড়া। একটা পর্যায়ে অধিকাংশ মানুষের দেহে ভাইরাস প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

আ্যন লিন্ডে বলছেন, সুইডিশ সরকার সরাসরি লকডাউনের পরিবর্তে দায়িত্বটা দেশের নাগরিকদের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সুইডেন সরকারের এই নীতি ভালোভাবেই কাজ করছে বলেই মনে করেন দেশটির সরকারি মহামারি বিশেষজ্ঞ আ্যন্ডার্স টেগনেল।

এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা হাজার পার হয়নি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স কিংবা ইতালিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবে সুইডেনের অন্যান্য প্রতিবেশী নরওয়ে এবং ডেনমার্ক, যারা প্রথম থেকেই কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা আরও কম।

লকডাউন ঘোষণা না করলেও ১৬ মার্চ থেকে সুইডেন সরকার সবাইকে নিয়মিত হাত ধুতে উৎসাহ দিয়ে আসছে, যাদের পক্ষে সম্ভব তাদেরকে বাড়ি থেকেই কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছে, অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতেই থাকতে বলছে। ২৪ মার্চ থেকে রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় না করার নতুন নির্দেশ দেয়া হয়, তবে একবারে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। সেই সাথে, সত্তোরোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে তারা যেন ঘরেই থাকে। যতটুকু সম্ভব সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলে।

তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছে, এমন উদারনীতির কারণে এরই মধ্যে সুইডেনে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে, এবং সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এমনকি সুইডেনেরই বহু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী আরও কঠোর নীতি নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

সেপ্টেম্বর ২০২৩
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।