• ঢাকা
  • সোমবার, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ ইং

দেশ রুপান্তরের খবর

টিকা’র প্রস্তাব নিয়ে ঢাকায় শ্রিংলা!

কভিড-১৯ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতার বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতেই দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার সরকারের বার্তা পৌঁছে দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও কূটনৈতিক একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কূটনৈতিক বিশেষকরা বলছেন, ভ্যাকসিন রাজনীতির অংশ হিসেবেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের এ সফর। আর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে।

তারা বলছেন, চীনের আবিষ্কৃত টিকার পরীক্ষা সংক্রান্ত অনুমোদন ঝুলে থাকার মধ্যেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ভারতের সঙ্গে টিকার ট্রায়ালের প্রস্তাবই নিয়ে এসেছেন শ্রিংলা।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রিংলার এ বৈঠকের বিষয় নিয়ে মুখ খোলেননি দুই দেশের কূটনৈতিক পক্ষ। আজ পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বৈঠকের পর সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় এবং বাংলাদেশকেও তাদের পাশে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শ্রিংলার বৈঠকে। মূলত টিকার ট্রায়াল, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে মিয়ানমারের সঙ্গে মধ্যস্থতা এবং তিস্তা চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এক নেতা এ বৈঠক সম্পর্কে বলেছেন, আমাদের ভ্যাকসিন দরকার। আমরা চাইব আমাদের সুবিধা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় কী হয়েছে সেটা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। তবে ভারতের সঙ্গে নানা কারণে আমাদের সম্পর্কের কিছুটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

এটি দুই দেশের জন্যই ভালো দিক নয়। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থ ক্ষুণœ করে কারও সঙ্গে সম্পর্কে জোরদার করবেন না। আর টিকার বিষয়েও আমাদের সুবিধার দিক নিয়েই আলোচনা হবে। তাছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আমরা ভারতের শক্তিশালী সমর্থন ও উদ্যোগের বিষয়টি জানিয়ে আসছিলাম। আমাদের সঙ্গে তিস্তাসহ অমীমাংসিত অনেক বিষয় রয়েছে।
এদিকে গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন শ্রিংলার সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা অফার করব, আমাদের এখানেও যদি ট্রায়ালের সুযোগ থাকে, অক্সফোর্ডের যেটা কাজ করছে, তাদের সঙ্গে আমরা লন্ডন মারফত যোগাযোগ করেছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক অনেক গভীর। এ সম্পর্কে যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সেজন্য যতœ নেওয়া লাগে। এছাড়া সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে কিছু কাল্পনিক সংবাদ হয়েছে, সেগুলো নিয়েও কথা হবে; যাতে সম্পর্কে কোনো গ্যাপ (ফাঁকফোকর) না থাকে। ’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচুর ইন্টারেকশন (আলোচনা) হয়। করোনার কারণে সে হিসেবে এ বছর কমই হয়েছে। সবসময় আলোচনায় সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি থাকে। এছাড়া কভিড নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।

দুই দেশের গণমাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বাংলাদেশ সফরকে ঝটিকা বলা হলেও তা নিছক ঝটিকা নয় বলেই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের এ সফরটিকে আকস্মিক বলা যাবে না। করোনা মোকাবিলায় চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রস্তাব আসার আগে থেকেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ শুরু হয়। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের বিষয় সামনে চলে আসে। তখন থেকেই এ সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে দুই দেশই এ ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করেছে।

বাংলাদেশ সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সরাসরি মিয়ানমারে যাবেন। তাই সেখানে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘হতে পারে। তারা তো এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতার কথা বলে আসছে। তারা মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষকে সাহায্য করছে যাতে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন হতে পারে। আমরা এ বিষয়ে আপডেট জানতে চাইতে পারি। ’

এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাসের টিকা এখন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে টিকা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে।

এর মধ্যে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড তাদের তৈরি করা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা বাংলাদেশে করার পরিকল্পনা করে। গত ১৮ জুলাই এ টিকা বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদনও দেয় বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, এ টিকার বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজটি করবে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআর,বি। আগামী ১৮ মাস ধরে দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা রয়েছে। তবে এখনো পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়নি। বিষয়টি নতুন হওয়ায় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম এর আগে জানিয়েছিলেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত টিকার পরীক্ষা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত হয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটি অব ইন্ডিয়া (এসআইই)। দ্বিতীয় ধাপ থেকেই কোভিশিল্ড নামক টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে যাচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী এ সংস্থা।

গত ৯ ডিসেম্বর ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (এনআরসি) পাস হয়। এরপর বিলটি ১১ ডিসেম্বর দেশটির উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়। বিল উপস্থাপনের সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে এখনো সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে। ’ প্রায় আট ঘণ্টা আলোচনার পর ১২৫-১০৫ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিল পাসকে কেন্দ্র করে আসামজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নিহত হন।

নাগরিকত্ব বিলে বাংলাদেশের কোনো প্রভাব পড়বে না, ভারতের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া হলেও বিল পাসের আগে ও পরে ভারত থেকে বেশকিছু নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটকও করে। দেশের বিভিন্ন মহলে এ বিল নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন তার পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর বাতিল করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় তার নয়াদিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। ওইদিনই আসাম সফর স্থগিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পরে তারা ভারত সফর করবেন বলে জানানো হলেও দুই মন্ত্রীর কেউই এখন পর্যন্ত দেশটি সফর করেননি।

সফর বাতিলের আগের দিন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে নিজের দপ্তরে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভারত ঐতিহাসিকভাবে একটি সহনশীল দেশ, যারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। সেখান থেকে পদস্খলন হলে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান দুর্বল হবে। ’

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী, তা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি যে এ নিয়ে কতগুলো কথা উঠেছে, এর অনেকগুলো সত্যি নয়। আমাদের দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি অত্যন্ত বেশি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমাদের দেশে অন্য ধর্মের লোক কেউ নিপীড়িত নয়। উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা যাত্রা শুরু করেছি। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সবাইকে একই দৃষ্টিতে দেখি। বাংলাদেশে আমরা কে কোন ধর্মের, সেটা নিয়ে বিচার করি না। বিচার করি সে বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা সব ধর্মের লোককে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখি। যেটা তারা তথ্য দিয়েছেন, বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, কথাটা সত্যি নয়। যারা তথ্য নিয়েছেন, ওনাদের যারা বুঝিয়েছেন, তারা সত্যি কথা বলেননি। ’

দুই মন্ত্রীর সফর বাতিলের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ওই সময়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব বিদেশে থাকার কারণে মন্ত্রী ভারত সফরে যাননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসামে যাওয়ার কথা ছিল। আসামে যেহেতু এখন অভ্যন্তরীণ অবস্থা খুব ভালো নয়, এটা চিন্তা করে ভারত সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলেই আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন যাচ্ছেন না। সেখানকার অবস্থা একটু উন্নতি হলে তখন উনি যাবেন। ’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এনআরসি কিংবা ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ইত্যাদি যেসব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, তার সঙ্গে আমাদের দুই মন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং নেই। ’

গত ১৫ জুন রাতে বিতর্কিত লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীনের সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হন। এরপর ১৯ জুন বাংলাদেশের নতুন ৫ হাজার ১৬১টি বাংলাদেশি পণ্যেসহ মোট ৮ হাজার ২৫৬ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় চীন। এ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে সংবাদ প্রকাশ করে। দেশটির বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে ‘বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা’। আর জি নিউজ নামের আরেকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম লেখে ‘ভারতকে চাপে ফেলতে বাংলাদেশকে “খয়রাতি” চিনের!’ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

এদিকে করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশে ভারতের পণ্য প্রবেশ করতে দিলেও ভারত বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না। এ নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কয়েকবার আলোচনা হলেও কোনো কাজ হয়নি। প্রতিবাদে গত ১ জুলাই বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ভারতের পণ্য আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। ৫ জুলাই থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়।

এরই মধ্যে চীনের আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখায় দেশটির সরকার। বিএমআরসি গত ১৯ জুলাই এ ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য নৈতিক (ইথিক্যাল) অনুমোদন দেয়। ভারতের গণমাধ্যমে সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

গত ১৫ জুলাই ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুর ‘শেখ হাসিনা ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলির সঙ্গে দেখা করছেন না’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘২০১৯ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে ভারতের চলমান প্রকল্পসমূহ শ্লথ হয়ে পড়েছে। ’ ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি সময় দেননি। ’ পরবর্তী সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পারার বিষয়টি ‘বানোয়াট তথ্য’ উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়।

গত ২২ জুলাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আলাপচারিতায় ইমরান খান বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ও চলমান বন্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এসব বিষয়ে অবহিত করেন। পাকিস্তানের গণমাধ্যম সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানিয়েছে, আলোচনার সময় ইমরান খান উল্লেখ করেন যে, পারস্পরিক বিশ্বাস, পারস্পরিক সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক গভীর করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে তার দেশের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

সফরের বিষয়ে কী বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম : ভারতের গণমাধ্যম জি ২৪ ঘণ্টা দাবি করেছে, শ্রিংলার এ সফরে তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হবে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে নয়া দিল্লি ও ঢাকার দড়ি টানাটানি নতুন কিছু নয়। আর তারই মাঝে সেই তিস্তা প্রকল্পেই সম্প্রতি ঢাকাকে বিপুল পরিমাণ সাহায্যের ঘোষণা করেছে পেইচিং। এমন আবহেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো ঝালিয়ে নিতে ও সামগ্রিক পরিস্থিতির আঁচ পেতেই এ ঝটিতি সফর। ’

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশকে তিস্তা প্রকল্পে চীন ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বর্ষায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে ওঠার হাত থেকে রক্ষা করবে। ’ আগামী ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত তিস্তার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছতেই শ্রিংলার এ ঝটিকা সফর।

দেশটির আরেক গণমাধ্য হিন্দুস্থান টাইমসের খবরে বলা হয়, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন শ্রিংলা। ’ গত মাসে বাংলাদেশকে ১০টি লোকোমোটিভ ট্রেন উপহার দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্য প্রিন্টের খবরে বলা হয়ছে, গত এক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে চলা বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক আবারও আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা নিয়ে শ্রিংলার এই সফর। ’ চীন বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘আগ্রাসী সম্পর্ক’ করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই সফর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবে। ’

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুলাই ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।