• ঢাকা
  • শনিবার, ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং
কুষ্টিয়ায় সনি রাইস মিল থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

এপ্রিল ২১-২০২,, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ               কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল দোস্তপাড়া আব্দুল মজিদ বাবলুর সনি রাইস মিলের গুড়ার গোডাউন থেকে আজ আনুমানিক দেড়টার দিকে মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্র পিয়াস (১২) নামের এক কিশোরের শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় দুলাভাই শাকিল (২২)কে জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে। পুলিশ নিহত পিয়াসের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত পিয়াস স্থানীয় মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্র। পুলিশ এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সনি রাইস মিলের ভ্যান চালক ছিদ্দিক, মনজের ও নাজমুলকে আটক করেছে। জানা যায়, নিহত পিয়াসের দুলাভাই শাকিল সনি রাইস মিলের গুড়ার গোডাউনে কাজ করে। পিয়াসকে ফুসলিয়ে সিগারেট আনতে বলে। পিয়াস সিগারেট নিয়ে গুড়ার গোডাউনে ঢুকলে ঘাতক দুলাভাই শাকিলসহ ২/৩জন মিলে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে গুড়ার বস্তার নীচে চাপা দিয়ে রাখে পিয়াসকে। নিহতের মা পিয়ারা খাতুন, বাবা সুলতান শেখ ও তার পবিরারের লোকজন পিয়াসকে খোজাখুজি করে। তারা কোথাও পিয়াসকে পায় না। এ সময় পিয়াসের বন্ধু দোস্তপাড়া রফিকের ছেলে রবিন (১২) জানায়, তার দুলাভাই শাকিল তাকে এই গোডাউনে নিয়ে যায়। পরে গুড়ার গোডাউনে খোঁজাখুজি করে বস্তার নীচ থেকে পিয়াসের লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে দোস্তপাড়া নিহত পিয়াসের বাবা সুলতান শেখ জানান, খাজানগর গ্রামের বাহাদুরের ছেলে শাকিল (২২) এর সাথে আমার মেয়ে সুর্বণা (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করে। এ ব্যাপারে দেড়মাস আগে পারিবারিকভাবে বিচার শালিস করে সুবর্ণাকে ওই বাড়িতে পাঠায়। ১৫দিন আগে ঘাতক শাকিল আমার মেয়েকে মেরে মাথা ফাটিয়ে ঘরে রেখে দেয়। পরে আমরা সুবর্ণাকে উদ্ধার করি। এরই জের ধরে ঘাতক শাকিল আমাদেরকে হুমকি দিয়ে আসছিল। আজ সকাল ১১টার দিকে নিহত পিয়াসকে ঘাতক শাকিল, তার ভাই শাহিন ও সনি রাইস মিলের গুড়া মিস্ত্রী নুর ইসলাম প্রস্তাব দেয় ক্যানালে গেলে ৫০০/- টাকা দেব। তখন নিহত পিয়াস দুলাভাই ঘাতক শাকিলকে জানায়, মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করে আসি। নিহত পিয়াস তার মার কাছে জিজ্ঞাসা করলে তার মা ক্যানালে যেতে নিষেধ করে। ঘাতক শাকিলের সাথে সুবর্ণাকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে আমার ছেলে হত্যা করেছে। নিহত পিয়াসের মা পিয়ারা খাতুন জানান, ঘাতক শাকিল ও সাথে ৩/৪জন মিলে আমার ছেলেকে গুড়ার গোডাউনে শ্বাসরুদ্ধ করে বস্তার নীচে চাপা দিয়ে রাখে। এ সময় ঘাতক শাকিলের সাথে গুড়া মিস্ত্রী নুর ইসলাম পালিয়ে যায়। ঘাতক শাকিল খাজানগর গ্রামের বাহাদুরের ছেলে। ঘাতক শাকিলের স্ত্রী সুবর্ণা জানায়, আমার স্বামী আমাকে বিয়ের পর থেকে মাদক সেবন করেন আমাকে মারধর করত। আমি আমার বাবার বাড়িতে চলে আসার সময় আমাকে হুমকি দেয় তোকে অথবা তোর ভাইকে মেরে ফেলব। পিয়াসের বন্ধু রবিন জানায়, আমি আর পিয়াস একসাথে খেলা করছিলাম। এ সময় ওর দুলাভাই পিয়াসকে ডেকে সিগারেট নিয়ে আয় বলে টাকা দেয়। পিয়াস সিগারেট এনে ওই মিলের গুড়ার গোডাউনে তার দুলাভাইকে দিতে যায়। এরপর আমার সাথে দেখা হয়নি। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, সুপরিকল্পিতভাবে পিয়াসের দুলাভাই শাকিল ও তার ভাই শাহিন এবং গুড়ার মিলের নুর ইসলাম মিলে এই হত্যাকান্ড ঘাটিয়েছে। এদিকে সনি রাইস মিলের মালিক আব্দুল মজিদ বাবলুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আজ ৩ বছর ধরে আটককৃত শাকিল ও নুর ইসলাম আমার মিলে মিস্ত্রির কাজ করে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফার সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, পিয়াস হত্যার মুল ঘাতক শাকিলকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছি এবং খাজানগর কাথুলিয়া মিলের মিস্ত্রি নুর ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা যায়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ঘটনাস্থলে। এলাকাবাসী এই হত্যার বিচারের দাবীতে ফুঁসে উঠেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জানুয়ারি ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« ডিসেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।