• ঢাকা
  • সোমবার, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ ইং
ভাল নেই কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পিরা

‘মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ মানুষ ভজা এই সহজ মানুষগুলো এখন আর ভাল নেই। করোনা তাদের জীবন ও জীবিকার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। লালন দর্শনে বিশ্বাসী এই মানুষগুলো লালন সাঁইজির বানী পরিবেশন করে সংসার ধর্ম পালন করে থাকেন। করোনার কারনে সব কর্মকান্ড বন্ধ হওয়ায় ৫ মাস ধরে লালন অনুসারীরাও তাদের কর্মকান্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। কিন্তু পেটতো আর তা বুঝে না। প্রয়োজন দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের।

কিন্তু সেই অন্ন’র জন্য হন্নে হয়ে ঘুরে ফিরছেন সারাক্ষণ। তাও মিলছেনা সেই অন্ন’র দেখা। লালন সাইজিঁর বানীর মত ‘সহজে পাবি কি তার দেখা’। সাধন বিনা যেমন সহজে স্রষ্টার দেখা পাওয়া যায়না, তেমনি কন্ঠের সাধন ছাড়া লালন অনুসারীদের ভোজনও হয়না। সাধনতো দুরের কথা। লালন অনুসারীদের তীর্থস্থান কুষ্টিয়ার লালন মাজার। দেশ বিদেশ থেকে লালন ভক্ত, অনুসারী, সাধু-গুরুরা বছরে দু’বার সাইজির দর্শন পেতে ছুটে আসেন কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে।

এছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ও দেশ ও দেশের বাইরের অসংখ্য দর্শনার্থী আখড়াবাড়ির লালন মাজার দর্শনে আসেন। আর মাজারে আসা দর্শনার্থীদের সাইজির বানী পরিবেশন করে মুগ্ধ করে থাকেন মাজারে থাকা বেশ কিছু বাউল শিল্পি। বাউল শিল্পিদের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে দর্শনার্থীরা তাদের দক্ষিনা দিয়ে থাকেন। দিনশেষে দক্ষিনা ভাগাভাগি করে নেন বাউল শিল্পিরা। আর তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। করোনার কারনে ৫ মাস ধরে আখড়াবাড়ির লালন সাইজির মাজারের মুল প্রবেশ দ্বারে ঝুলানো হয়েছে তালা। তাই ভেতরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আর এ কারণে বন্ধ রয়েছে বাউল শিল্পিদের কন্ঠের সাধনও। সেটা মাজার আঙিনায় হোক বা অন্যত্র।

করোনার এই দুঃসময়ে জেলা প্রশাসন দু’একবার খাদ্য সহায়তা দিলেও তা দিয়েতো মাসের পর মাস চলা যায়না। তাই আখড়াবাড়ির বাউল শিল্পি বাবু শাহসহ অখড়াবাড়িতে সাধন ভজনে থাকা সহজ মানুষগুলো নিরূপায় হয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের যেন অন্তত দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের ব্যবস্থা হয়। শুধু আখড়াবাড়ির বাউল শিল্পিরা নয়, করোনার এই দুঃসময়ে কষ্টে আছেন লালন অনুসারী সাধুরাও। যারা নিজ আশ্রমে সাধন ভজনে দিন কাটান। দীর্ঘ ৫মাস নেই তাদের সাধুসঙ্গ। নেই সাধুদের সেবার ব্যবস্থা।

তাই করোনার এই ক্রান্তিকালে তাদের সেবার ব্যবস্থা যেন হয় এমন আকুতি বিভিন্ন আশ্রমের সাধুরা ব্যক্ত করেছেন। তবে করোনাকালীন এই দুঃসময়ে জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি শিল্পিদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। তবে বিকল্প উপায়ে সংস্কৃতি কর্মকান্ড চলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা কালচরাল সেক্রেটারী সুজন রহমান।
করোনা থেকে হয়তো করুনা মিলবে না। কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্টদের করুনা দৃষ্টি পেলে অন্তত এই দুঃসময়ে সংস্কৃতি শিল্পি বা বাউল শিল্পিদের জীবন ধারণ করে বেঁচে থাকা সম্ভব। আর এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুলাই ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।