• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারে  মুক্তির স্বপ্ন দেখছেন ৪০ কয়েদি

মোঃ আলাউদ্দিন মন্ডল, রাজশাহী
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সাল। এমন বর্ষে সাজা মওকুফ ও মুক্তির আশায় বুক বেধেছেন রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০ বছরের অধিক সময় ধরে কারাবন্দি ৪০ জনের বেশি কয়েদি। এসব কয়েদি ও তাদের পরিবারের আশা, এমন খুশির বছরে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করার সুযোগ দিবেন সরকার।
বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রিয় কারাগারে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে সাজাভোগ করছেন ৪০ জনের বেশি কয়েদি। এদের মধ্যে ৫০ বছর থেকে শুরু করে ৮০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ রয়েছে।কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাবিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী কোনো যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার সাজার মেয়াদের ২০ বছর সাজা খাটলে সেই বন্দী মুক্তির আবেদন করতে পারেন। এসব বন্দীদের বয়স, আচার-আচরণ, মামলার ধরণসহ সেই বন্দীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকে তবে সরকার চাইলে বিশেষ সুবিধায় এবং বিশেষ বিশেষ জাতীয় দিবসে তাদের মুক্তি দিতে পারেন।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এসব বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি বন্দিদের সুযোগ নয়। এদের মুক্তির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। ২০ বছর সাজা খেটেছেন এমন কয়েদিদের মধ্যে যারা খুব অসুস্থ, অক্ষম বা বৃদ্ধ তাদের জন্যই এ ধারা প্রযোজ্য। এছাড়া কেউ কারাভোগের সময় খুব ভালো আচরণ করলে তাদের ক্ষেত্রেও ধারাটি প্রযোজ্য হতে পারে।সম্প্রতি রাজশাহী কেন্দ্রিয় কারাগারে সাজা ভোগ করে মুক্তি পাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হাজতিরা বলেন, জেলখানার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক ভালো। ২০ বছর ধরে জেল খাটছেন এমন অনেক কয়েদি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। সেই সাথে তাদের আচরণ এখন অনেক ভালো ও সন্তোষজনক।২০২০ সালে সারাদেশের জেলগুলো থেকে ৩২৯ কয়েদি মুক্তি পেয়েছিল। এরমধ্যে রাজশাহী কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল ২৭ জন। কারাগারে আরো ৪০ জনের বেশি কয়েদি আছে যাদের সাজা ভোগ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে মুক্তির আশায় প্রহর গুনছেন কয়েদি ও তাদের পরিবারের লোকজন।প্রধানমন্ত্রীর নিকট কারা বন্দী কয়েদিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে যে, ২০১০ সালে সারা দেশে এক হাজার ৬৪ জন, ২০১১ সালে ৬৭২ জন, ২০১৩ সালে এক হাজার ৬৮ জন ও ২০২০ সালে ৩২৯ জন কয়েদিকে মানবিক দৃষ্টি থেকে কারাবিধির ৫৬৯ ধারা মোতাবেক দীর্ঘমেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মুক্তিদান করেছিলেন মানবতার মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
রাজশাহী কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানান, এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসব কয়েদির সাজার মেয়াদ ২০ বছর পূর্ণ হয় তার ৩ মাস আগেই আমরা সেই তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেই। সারাদেশ থেকে এমন তথ্য মন্ত্রনালয়ে যায়। এরপরে মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে তালিকা তৈরি করে। মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা আসে সেসব কয়েদিকে মুক্তি দেয়া হয়।
সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান আরো জানান, দেশদ্রহী, জঙ্গিবাদের মতো গুরুতর অপরাধের সাজাখাটা অপরাধীরা এ ক্ষমার আওতায় পড়ে না। তাদের তালিকাও পাঠানো হয় না। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ অপরাধে যারা দীর্ঘদিন সাজাভোগ করছেন তাদের মধ্যে যারা খুব অসুস্থ, অক্ষম বা বৃদ্ধ তাদের জন্যই এ ধারা প্রযোজ্য। এছাড়া কেউ কারাভোগের সময় খুব ভালো আচরণ করলে তাদের ক্ষেত্রেও ধারাটি প্রযোজ্য হতে পারে।বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালে দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের মুক্তি দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। তারা নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের তালিকা পাঠানো হয়।
মন্ত্রণালয় থেকে এমন সংবাদও তারা এখনো পাননি। বিষয়টি সম্পর্ণ মন্ত্রণালয়ের। তবে এখনো সময় আছে। যেকোন সময় এমন নির্দেশনা আসলে আসতেও পারে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।