• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুন, ২০২১ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
কোনো বিপদেই যে কাবু হয় না

ছবি সংগৃহিত

যে জীব সংগ্রামে জয়ী হবে, সে জীব পৃথিবীতে টিকে থাকবে। যারা জীবন সংগ্রামে হেরে যাবে, তারা সরাসরি চলে যাবে মাঠের বাইরে। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যাবে। এই তত্ত্ব বহু আগে দিয়ে গেছেন চার্লস ডারউইন। এবং সেটাই হচ্ছে, প্রতিনিয়ত কঠিন সংগ্রাম করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয় জীবেদের।
এইভাবে কোটি কোটি বছর ধরে কোটি কোটি জীব এই পৃথিবীতে এসেছে, আবার হারিয়ে গেছে।

পৃথিবীর বিপদসংকুল ও চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তেমন একটি প্রাণি লড়াই করে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এলেও, দাপটের সঙ্গে টিকে আছে পৃথিবীতে। এই প্রাণীটির ক্ষতি করতে পারে না পৃথিবীর কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তার এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জীব হিসেবে ধরে নেয়া হয়। জীব বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণীটির নাম টার্ডিগ্রেড।

১৭৭৩ সালে এই ক্ষুদ্র জীবটি আবিষ্কার করেছিলেন জার্মান জীববিজ্ঞানী জোহান গোয়েজ। ১৭৭৭ সালে প্রাণীটিকে ‘টার্ডিগ্রেড’ নামটি  দিয়েছিলেন ইতালীয় বিজ্ঞানী ল্যাজারো স্পালাঞ্জান। বিজ্ঞানী ল্যাজারো দেখেছিলেন প্রাণীটি অত্যন্ত স্লথগতিতে চলা ফেরা করে। তাই ল্যাটিন শব্দ ‘টার্ডিগ্রাডা’ ভেঙে প্রাণীটির নাম দিয়েছিলেন ‘টার্ডিগ্রেড’। ‘টার্ডিগ্রাডা’ শব্দটির অর্থ হলো ‘যে ধীরে ধীরে পা ফেলে’। এছাড়া, দেখতে মোটাসোটা হওয়ার জন্য ‘জলের ভাল্লুক’ নামেও পরিচিত ‘টার্ডিগ্রেড।

পৃথিবীর অতি প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এই টার্ডিগ্রেড। এমনই ভয়ঙ্কর চেহারা, দেখলেই গা শিউরে উঠবে। আধ মিলিমিটার লম্বা দেহে আছে আটটি পা। প্রত্যেক পায়ের নীচে আছে নখওয়ালা থাবা।

ভয়াবহ মুখটির সামনে আছে গোলাকার একটি চাকতি। যার সাহায্যে জলে মিশে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি দ্রব্য শুষে নেয়। এদের দেখলে মনে হয় পতঙ্গের লার্ভা জাতীয় কোনো প্রাণী। কিন্তু এদের সঙ্গে অঙ্গুরীমাল পর্বের প্রাণী, অর্থাৎ কেঁচো জাতীয় প্রাণীদের মিল বেশি। সাধারণত এরা জলে ভেসে থাকে। কখনও জলজ উদ্ভিদকে আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকে।

কয়েক বছর আগে, ‘পিএলওএস- বায়োলজি’ নামে একটি বিখ্যাত বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নালে, টার্ডিগ্রেড প্রাণীটির ডিএনএ সংক্রান্ত একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, আধ মিলিমিটারেরও কম লম্বা টার্ডিগ্রেড, অসহ্য গরম ও দুঃসহ ঠান্ডা দুটোই সহ্য করতে পারে।

টার্ডিগ্রেড বায়ুশূন্য পরিবেশে থাকতে পারে। টিকে থাকতে পারে মহাশূন্যেও। এমনকি টার্ডিগ্রেড সইতে পারে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তাও। খাবার না খেয়ে টার্ডিগ্রেড বেঁচে থাকতে পারে প্রায় ৩০ বছর।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা গেছে, খাবার না পেলে টার্ডিগ্রেডের শরীরের আভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপের অধিকাংশই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেহ চালাতে প্রায় কোনো শক্তিরই প্রয়োজন লাগে না। ফলে বিনা খাদ্যে টার্ডিগ্রেডরা বাঁচতে পারে বহুবছর।

শুধু খাদ্য নয়, জল ছাড়াও টার্ডিগ্রেড বাঁচতে পারে বহু বছর। প্রখর রোদে শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের ফুটিফাটা মাটিতে, কাঠ হয়ে পড়ে থাকা জলজ উদ্ভিদের দেহের ভেতর দিব্যি এরা বেঁচে থাকে। জলপান না করেই। বছরের পর বছর।

জীববিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিস্ময়কর ঘটনাটির মূলে আছে টার্ডিগ্রেডের দেহে থাকা কিছু প্রোটিন। যে প্রোটিনগুলো এদের দেহে জলের অভাব পূরণ করে দেয়। তবে পরিবেশে জলের সন্ধান পেলে, আবার টার্ডিগ্রেডরা শরীরে প্রয়োজনীয় জল ভরে নেয়। তাই গবেষকদের মতে পৃথিবীতে যতরকম দুর্যোগ ঘটে, সবগুলো থেকে বেঁচে ফেরার বিশ্বরেকর্ড আছে এই টার্ডিগ্রেডদের।

সূত্র : দ্যা ওয়াল

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« মে  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০