• ঢাকা
  • বুধবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং
করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা

ছবি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন সংস্করণেে ঃঃ জিল্লুর রহমান রাসেল     করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, হাসপাতাল, খাবার দোকান, ওষুধের দোকান ও জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৬৪ জেলায় সেনাবাহিনী মাঠে নিয়োজিত থাকবে। তাদের সঙ্গে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসকের অধীনে তাঁরা কাজ করবেন।
আজ সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে মোট ১০টি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন।
সেগুলো হলো-
প্রথম. ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মূলত ২৬ মার্চ থেকেই সারাদেশের সরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকবে। এছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বন্ধের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।কাঁচাবাজার, খাবার এবং ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবার জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না।করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধকল্পে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সেই সঙ্গে জনসাধারণকে এই মর্মে অনুরোধ করা করা যাচ্ছে যে, তারা যেন এ সময় জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা, মৃতদেহের সংকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না আসেন।
দ্বিতীয়. এই সময়ে বিভিন্ন অফিস-আদালতের প্রয়োজনীয় কার্যাবলী অনলাইনে সম্পাদন করতে হবে। সরকারি অফিসসমূহের মধ্যে যারা প্রয়োজন মনে করবে তারা অফিস খোলা রাখবে।
তৃতীয়. সারাদেশে গণপরিবহণ চলাচল সীমিত থাকবে। জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারে পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করবেন তাদেরকে অবশ্যই করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থ. জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

পঞ্চম. আগামীকাল ২৪ মার্চ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় শহরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।
সেনাবাহিনী বিশেষ করে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের কেউ নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক সময় পালনে ত্রুটি/অবহেলা করছে কি না পর্যালোচনা করবে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ এজন্য স্থানীয় আর্মি কমান্ডারের কাছে সেনাবাহিনী কর্তৃক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য আইনানুসারে অনুরোধ জানাবে।
ষষ্ঠ. করোনাভাইরাসের কারণে নিম্ন আয়ের কোনো ব্যক্তি শহরে জীবন-যাপনে অক্ষম হলে সরকার তাঁকে ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির অধীনে নিজ গ্রামে/ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করছে। জেলা প্রশাসকগণ এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
সপ্তম. সরকার ভাষাণচরে এ লক্ষ্যে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করছে। সেই সঙ্গে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গকে সরকার এই সুযোগ গ্রহণে আহ্বান জানাচ্ছে। ভাষাণচরে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যক্তিবর্গকে সেখানে প্রেরণের জন্য সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হলো।
অষ্টম. করোনাভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অসুবিধা নিরসনে জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নবম. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৫০০ ডাক্তারের তালিকা করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনকে (বিএমএ) নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
দশম. সবরকম সামাজিক/রাজনৈতিক ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ/জ্বর/সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যেতে বারংবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তা ভঙ্গ করে একজন মিরপুরে মসজিদে যাওয়ায় অন্য ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জানুয়ারি ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« ডিসেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।