• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ ইং
যোগ্যতানুযায়ী একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার আকুতি

দিনটি ছিল ২০১৬ সালের ২২ শে জুলাই। ভোলার শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস প্রকল্প উদ্বোধন শেষে সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সাংসদ তোফায়েল আহমেদ এবং ভোলা ২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব আলী আজম মুকুল এর হোন্ডা বহরে শরীফের জীবনের উপর দিয়ে বয়ে গেছে সড়ক দুর্ঘটনা নামক একটি কালো দিন। এই দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ছিড়ে যায় এবং তাৎক্ষণিক তাকে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐদিন তার পরিবার তাকে নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলো। শরীফকে কিভাবে বাঁচানো যায়। কিন্তু শরীফ নামক ছেলেটিকে তাহার পরিবার ঠিকই বাঁচিয়ে তুলে টাকা পয়সার হিসাব না করে এবং জমি বিক্রি করে। বোরহানউদ্দিন থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বরিশাল সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে, সেখানে সাময়িক একটা অপারেশন করার পর ডাক্তার বলেন তাহাকে বাঁচাতে হলে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তখন রাত ১২ টা বেজে ৫ মিনিট তার বড় ভাই, ভাগিনা এবং ভগ্নিপতি সহ তাকে ঢাকার উদেশ্যে নিয়ে যাওযার জন্য রওনা হয়। সকাল ১১ টায় গিয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পৌঁছালে তারপর অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়, প্রায় ৪ ঘন্টা অপারেশন শেষ করার পর তার পরিবারকে শুনানো হয় অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। শরীফের জ্ঞান ফেরার পর পায়ে দিকে তাকিয়ে দেখে বড় বড় স্টীল’এর রড লাগানো আছে।তার পর দিন ভোলা ২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল তাকে পঙ্গু হাসপাতালে দেখতে যায় এবং তার খোঁজ খবর রাখেন।জীবন যুদ্ধে শরীফ পঙ্গু হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৩ মাস ভর্তিরত থাকেন এরপর সেখানের চিকিৎসায় ডাক্তারদের ত্রুটি দেখা দিলে তার বড় ভাই সৌদি প্রবাসী মোঃ মিজান চলে আসেন সৌদি আরব থেকে ছোট ভাই শরীফের দেখাশুনা করার জন্য এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।
শরিফ এর বড় ভাই সৌদি আরব থাকাকালীন সময়ে ছোটবেলা থেকেই তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে আসছেন।১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর পায়ে রিং লাগিয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। কিন্তু শরীফের সৌদি আরব প্রবাসী বড় ভাই মোঃ মিজান তার পিছনে সময় দিতে এসে তাহার চাকরিটিও হারায়।শরীফ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ কিন্তু তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা খরচ করেছে তার ভাই সৌদি প্রবাসী মিজান এবং শরীফের মায়ের সমস্ত সম্পদ বিক্রি করে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করা হয়। শরীফ ভোলা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে অসহায়ত্বের সাথে বেকারত্ব জীবন যাপন করছে।সে রাজনৈতিক প্রটোকলে গিয়ে তার জীবনে পঙ্গুত্বের স্বাদ বহন করে। কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে তেমন কোন সাহায্য পায়নি শরীফ। সে হাসাননগর ইউনিয়ন থেকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে না। এমনকি একটি বিজিডি কার্ড ও প্রতিবন্ধী কার্ডও তার নামে নাই। বর্তমানে শরীফের পরিবারসহ এবং প্রতিটি সদস্য অসহায় জীবন যাপন করছে। যে ভাইটি সৌদি আরব প্রবাসী ছিলো সেও আজ দেশে এসে বেকার জীবন যাপন করছে সৌদি আরবে তার কোম্পানির চাকরিটি হারিয়ে।ভোলা-২ (১১৬) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব আলী আজম মুকুল এমপি মহোদয়ের কাছে শরিফ ও তার পরিবারের একটাই চাওয়া এবং আকুল আবেদন শরীফকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হউক।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

এপ্রিল ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।