• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সড়কে পোশাক শ্রমিকেরা

সুমন ভূইয়া সাভারঃ 

ঢাকার আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে দুটি কারখানার শ্রমিকেরা আজ বুধবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। দুই থেকে চার মাসের বেতন না পাওয়ায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুলিয়ার জামগড়ার ওয়ার্ল্ড ওয়ান ডেনিম লিমিটেড নামের একটি ধোলাই কারখানার শ্রমিকেরা গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না। বেতন ও ভাতার জন্য কয়েক দিন ধরে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে জড়ো হচ্ছিলেন। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় তাঁরা বেতন বা কোনো আশ্বাস না পেয়েই ফিরে গেছেন।আজ সকালে কারখানার সামনে উপস্থিত হয়ে বেতনের দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সকাল ১০টার দিকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা বেতন-ভাতার পাশপাশি কারখানা খোলার দাবি জানান। অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে পুনরায় যানচলাচল শুরু হয়। বকেয়া বেতনের দাবিতে এ ওয়ান কারখানার শ্রমিকেরা আজ বুধবার সকালে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন।

এদিকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) এ ওয়ান নামের একটি পোশাক কারকানার শ্রমিকেরা আজ বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা ডিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে চলতি মাসসহ তাঁদের চার মাসের বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের দাবি জানান।

এ ওয়ানের শ্রমিকেরা বলেন, কয়েক দফায় বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েও তাঁদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। চলতি মাসসহ চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে করোনার মধ্যে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁরা বলেন, অনেক পরিবারের ঘরে খাবার নেই, নেই অর্থ। এই বিপদের মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিকই কোনো ত্রাণসহায়তাও পাচ্ছেন না।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা বাসাভাড়া ও দোকান বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না। বাসা ও দোকানমালিকেরা শ্রমিকদের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাসা ও দোকানমালিকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁরা শ্রমিকদের এই মুহূর্তে টাকার জন্য চাপ না দেন। এ ছাড়া দুস্থ শ্রমিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, একদিকে কারখানা খুলে দিয়ে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে বেতন না দিয়ে শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে ডিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আব্দুস সোবাহান বলেন, এ ওয়ানের শ্রমিক বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব শিগগির তাঁদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

নভেম্বর ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« অক্টোবর  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।