• ঢাকা
  • সোমবার, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মে, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২০

উন্নয়নে নবীন প্রবীণের যোগসূত্র জরুরি

ছবি প্রতিকী

“তোমার হলো শুরু আমার হলো সারা—তোমায় আমায় মিলে এমনি বহে ধারা” প্রিয়গানের কলি প্রায়ই গুণগুনিয়ে গাইতে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সালেহা বেগম। ছোট রোহান গানের মর্ম বোঝেনা শুধু নানির মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। নাতি রোহানকে নিয়েই সালেহা বেগমের অখন্ড অবসর সময় কাটে। দিনের শুরু নাতিকে নিয়ে, শেষও তেমনই। একজন মানুষের জীবনচক্র যথা- নবজাতককাল, শৈশবকাল, কিশোরকাল, প্রাপ্তবয়স্ককাল এবং বার্ধক্যকাল। এই পঞ্চম ধাপের শেষ ধাপ হল বার্ধক্যকাল। একালে অবস্থানরত মানুষগুলোকে আমরা বলি প্রবীণ। সালেহা বেগম জীবনের পঞ্চম স্তর পার করছেন। ‘প্রবীণ’ যাত্রাপথ ষাট বছর হতে শুরু করে জীবনের সমাপ্তি পর্যন্ত ধরা হয়। প্রবীণ আর বার্ধক্যকাল এক নয়। প্রবীণ ব্যক্তি বার্ধক্যে পতিত নাও হতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে একজন মানুষকে ষাট বছর পার হওয়ার পূর্বেই বার্ধক্যে পতিত হতে দেখা যায়। এর পেছনের কারণগুলো হল- দারিদ্র্য, কঠোর পরিশ্রম, অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান। সালেহা বেগমের মতো নাতি নাতনি কিংবা পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দদায়ক সময় কাটানোর সৌভাগ্য সকল প্রবীণের হয় না। পরিবার পরিজন বিহীন অনেকের ঠিকানা হয় প্রবীণ নিবাস কেউবা হন আশ্রয় সম্বলহীণ ভবঘুরে। প্রবীণ জনগোস্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে ১৯৯০ সাল থেকে। প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি, বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসাবমতে ২০২০ সালের মধ্যে ষাট বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী লোকের সংখ্যা পাচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তুলনায় বেশি হবে। পরবর্তী তিন দশকে বিশ্বব্যাপী প্রবীণদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেড় বিলিয়নেরও বেশি লোক প্রবীণ হবেন এবং তাদের আশি শতাংশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে বাস করবে।

করোনা মহামারি ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী:

২০২০ সালটি জাতিসংঘের পচাত্তর তম বার্ষিকী এবং আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের ত্রিশ তম বার্ষিকী । এ বছর কোভিড-১৯ মহামারি এর প্রকোপ দেখা গেছে, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর মতো মহামারি প্রাদুর্ভাবের সময় প্রবীণ ব্যক্তিগণ যে উচ্চতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছিল তা বিবেচনা করে নীতি,কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তাদের বিশেষ প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। উল্লেখ্য, কোভিড- ১৯ মহামারিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিলো সবার উপরে। একই সময়ে অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবাও বিশ্বজুড়ে মারাত্নকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস করোনা মহামারিতে প্রবীণদের অবস্থা বর্ননা করতে গিয়ে বলেছেন,‌‘‘‌‌‌‌‍কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বজুড়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য অবর্ননীয় ভীতি এবং যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যগত ঝুকির প্রভাবের বাইরেও মহামারিটি প্রবীণ ব্যক্তিদের দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে ফেলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রবীণ ব্যক্তিদের উপর এটি সম্ভবত আরও বিধ্বংসী প্রভাব ফেলবে।’’

 

কেমন আছেন প্রবীণেরা?

গড় আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশের নাগরিকদের গড় আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় প্রবীণ জনগোষ্ঠির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবীণগণ স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সাথেই থাকতে চান এবং সামাজিকভাবেও সেটার প্রচলন আবহমানকাল ধরে। তবে সময়ের সাথে সাথে সামাজিক অবস্থা এবং পারিবারিক কাঠামোতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে প্রবীণদের জন্য যথেষ্ট সেবা-ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে একক পরিবার গঠন এবং মানুষজন গ্রাম ছেড়ে শহরে বা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারের অনেক প্রবীণ সদস্য অরক্ষিত হয়ে পড়ছেন। প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমশ: বাড়তে থাকলেও ভবিষ্যতে এই জনগোষ্ঠির সেবা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং জনবল এখনও অপ্রতুল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই অবহেলিত, পশ্চাদপদ ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সংবিধানে তাদের অধিকারের কথা সন্নিবেশিত  করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রবীণ হিতৌষি সংঘকে সুসংসগঠিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শি চিন্তার গুরুত্ব অনস্বীকার্য
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট:

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

মে ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« এপ্রিল  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১