• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
রাজশাহীর বাঘায় বিএসটিআই’র নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বেকারি কারখানাগুলো।

বাঘা ( রাজশাহী) প্রতিনিধি।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পৌর শহর ও ছোটবড় বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে বেকারীর কারখানা। এসব বেকারীর কারখানা গুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরিকৃত খাবার পুরো উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে ।

বিশেষ করে বিস্কুট, কেক, বন, পাউরুটি, চনাচুরসহ নানা ধরনের বেকারী যাবতীয় পণ্য সেখানে বানানো হয়। তা সকল শ্রেণীর মানুষ খাওয়ার জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। যা বাসা বাড়িতে হঠাৎ করে আত্মীয়-স্বজনরা এলে এসব খাবার পরিবেশন করা হয়। শিশুদের পছন্দের খাবার হিসেবেও বেকারীর খাবার সবার প্রিয়।

কারখানা থেকে প্রত্যান্ত অঞ্চলে প্রতিদিন পৌঁছে যায় এসব খাবার। ফলে মানুষ স্বাস্থ্যকর মনে করে এসব বেকারীর খাবার খেয়ে থাকেন। কেউ কি কখনও ভেবে দেখেছেন এসব খাবারগুলো কোথায় এবং কিভাবে তৈরি হচ্ছে? এসব বেকারীর তৈরী নাস্তা ও খাবার খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেকারী গুলোতে নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)’র সনদ , নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এভাবে অবৈধভাবে গড়ে উঠা নামে বেনামে কারখানা গুলোর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন অভিযান চলতেও দেখা যায়নি বহুদিন ধরে। ফলে যত্রতত্র গড়ে উঠছে কারখানা।

সরেজমিন পরিদর্শন ও অনুসন্ধানে জানা যায়, আড়ানী ষ্টেশন বাজারে নুরুনগরের রাজীব হোসেন এর রুমানা বেকারী তে নিয়ম না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করছে এসব পণ্য। সেই সাথে বগুড়ার বেকারী থেকে খাদ্য কিনে তা নিজের অনুমোদন ছাড়া প্যাকেটে বাজার যাত করছে। সেইসাথে তৈরী করার পাত্রগুলো অপরিষ্কার। যার মধ্যে মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড় ধুলাবালি লক্ষ্য করা গেছে।

এসব খাবারের প্যাকেটে নেই কোন উৎপাদন, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য তালিকা। বিস্কুট কেজি হিসেবে এবং কেক ও বন রুটি বিক্রি হয় পিস হিসেবে। খুব ভোরে পর পরই ভ্যানযোগে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়, অলিগলির জেনারেল স্টোর ও চায়ের দোকানে এসব পণ্য পৌঁছে দেন ডেলিভারিম্যানরা।

রাতদিন চলে অস্ব্যাস্থকর ও নোংরা পরিবেশে বিভিন্ন আইটেমের নাস্তা ও খাদ্যদ্রব্য তৈরী। পুড়া, বাসী তৈল, স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর ক্যামিকেল মিশিয়ে পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুর, ইত্যাদি ময়দা দিয়ে তৈরী করে বাঘা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে নাামি দামি দোকানে প্রতিনিয়ত সরবরাহ করছে।

উক্ত খাবার খেলে মানবদেহের বিভিন্ন ধরনের রোগব্যধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সচেতন মহলের দাবি শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে উক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এছাড়াও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ব্যাপারে জানা নেই তাদের। অনুমোদনহীন খাবারের সঙ্গে বেকিং পাউডার, ইষ্ট ও অ্যামোনিয়াসহ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।

বেকারীর পরিচালক রাজিব হোসেন সাথে কথা হলে তিনি জানান, তাদের বেকারীর অনুমোদনে কাগজপত্রের জন্য আবেদন করা আছে ।

বাঘার স্যানেটারী ইন্সপেক্টর হান্নান হোসেনের সাথে এবিষয়ে কথা বলা হলে তিনি জানান, বোকরীগুলোতে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে খাবার তৈরী ও বিএসটিআইর নীয়মাবলী মেনে খাদ্যদ্রব্য তৈরী করতে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা নির্দেশনা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারী করে শীগ্রই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

আগষ্ট ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জুলাই  
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।