• ঢাকা
  • শনিবার, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২৪ ইং
প্রাণবন্ত রান্নায় পেঁয়াজের বিকল্প“পাতা পেঁয়াজ”

ছবি- জিল্লুর রহমান রাসেল

 

পাতা পেঁয়াজ বাংলাদেশের একটি অপ্রচলিত মসলা ফসল। অপ্রচলিত হলেও স্বাদে, গন্ধে, গুণে এর জুরি মেলা ভার। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবেও এর ব্যবহার বহুল সমাদৃত। পাতা পেঁয়াজের ইংরেজী নাম“Bunching Onion” । পাতা পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ দু’টিই“Alliaceae”  পরিবারের দুই সদস্য। পাতা পেঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম“Allium fistulosum”, অপরদিকে পেঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম“Allium cepa” পাতা পেঁয়াজের পাতা ও ফুল দেখতে সাধারণ পেঁয়াজের মতই। কিন্তু পাতা পেঁয়াজে সাধারণ পেঁয়াজের মত বাল্ব হয় না। বাল্বের পরিবর্তে সেখানে একটি Balanced Pseudostem (ব্যালান্সড সিডো স্টেম) উৎপন্নহয়। Balanced Pseudostem (ব্যালান্সড সিডো স্টেম) সহ সমগ্র পাতা খাওয়া যায়। পাতা পেঁয়াজ একবার লাগালে সেখান থেকে পুনরায় আবার জন্মায়। একে র‌্যাটুনিং ফসল বলে। একটি গাছ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৩-৪ বার পাতা সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পাতা পেঁয়াজের বীজ বপন করতে হয়। বাড়ির আঙ্গিনার এক কোণে কিছু পাতা পেঁয়াজের গাছ লাগালে সারা বছর সেখান থেকে ফলন পাওয়া যায়। তাপমাত্রা কমে গেলে (নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে ) পাতা পেঁয়াজে ফুল আসে ও বীজ হয়। বীজ এবং কুঁশি দুইটির মাধ্যমেই পাতা পেঁয়াজের বংশবিস্তার হয়। পাতা পেঁয়াজে  তেমন  কোনো  রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমন হয়না। 

বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যকে রুচিকর, সুগন্ধপূর্ণ করার মাধ্যমে প্রানবন্ত করে তোলার জন্য পাতা পেঁয়াজের পাতা খাদ্যাদিতে মিশানো হয়। বিভিন্ন প্রকার সুপের স্বাদ বৃদ্ধি করতে ও সালাদ তৈরী করতেও এটি ব্যবহৃত হয়। মূল বাদে গাছের সমস্ত  অংশ সালাদ  বা তরকারীর সাথে রান্না করে খাওয়া হয়।

স্বাদ  কারক হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও পাতা পেঁয়াজের অনেক ঔষুধী  গুণ আছে। পাতা পেঁয়াজে খুব শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট আছে। যা দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ গঠনে সহায়তা করে। পাতা পেঁয়াজের পাতা হাঁপানী রোগের জন্য বিশেষ উপকারী। এছাড়াও পাতা পেঁয়াজে“এলাইল প্রোপাইল ডাই সালফাইড”আছে, যা তীব্র ঘ্রাণের সৃষ্টি করে এবং “থাইওপ্রোপানাল এস-অক্সাইড” আছে, যা চোখে পানি  তৈরী করে।

ফরিদপুর মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মুশফিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ  কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. মো. আলাউদ্দিন পাতা পেঁয়াজ নিয়ে  দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তার প্রচেষ্টায় ২০১৩ সালে “বারিপাতা পেঁয়াজ-১” নামে একটি জাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক অবমুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পাতা পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। ফরিদপুরের বাহিরদিয়াতে অবস্থিত  মসলা গবেষণা  উপ-কেন্দ্র এর বিজ্ঞানীরা পাতা পেঁয়াজসহ অন্যান্য মসলা ফসলের জাত উন্নয়ন নিয়ে নিরলস গবেষণা করে যাচ্ছে।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।