• ঢাকা
  • রবিবার, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২৪ ইং

চরভদ্রাসন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আবাসন নির্মানে গাফলাতি

ঠিকাদারের বিড়ম্বনায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পরবাসে দেড় বছর

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ঃ-
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মান প্রকল্পর মধ্যে ঠিকাদারের গাফলাতির কারনে পাঁচটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাকা দালান নির্মান কাজ গত দেড় বছরেও সম্পন্ন হয় নাই। এতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে করুনার পাত্র হয়ে পরবাসে রাত দিন কাটাচ্ছেন বলে মঙ্গলবার ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এসব আবাসন নির্মান কাজের ঠিকাদার হচ্ছেন উপজেলার ‘জয় ট্রেডার্সে’র স্বত্তাধিকারী আঃ কুদ্দুস ওরফে ভিপি কুদ্দুস। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি উপজেলার পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বসতভিটেয় পাকা দালান নির্মানের নামে প্রকল্পের অর্ধেক কাজ করেই দুই কিস্তি সরকারি বিল উঠিয়ে নিয়ে বাকী কাজ আর সম্পন্ন করেন নাই বলে অভিযোগ। ফলে, বসবাস অনুপযোগী নির্মানাধীন বসতঘর ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত কষ্ট করে এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরবাস করে চলেছেন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো হলো-উপজেলা সদর ইউনিয়নের কে.এম ডাঙ্গী গ্রামের শেখ আঃ মান্নান, একই গ্রামের মৃত আঃ জালিল মাষ্টার, আঃ জলিল খান, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের জাকেরের সুরা গ্রামর মোসলেম উদ্দিন খান ও বি.এস ডাঙ্গী গ্রামের আমিন উদ্দিন মোল্যার ভিটেয় পাকা দালান নির্মান।
জানা যায়, উপজেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তর ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৬টি অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে আবাসন নির্মানের জন্য একতলা পাকা দালান নির্মান কাজ শুরু হয়। প্রতিটি পরিবারে সরকারিভাবে ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা করে আবাসন নির্মান ব্যায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারের মাধ্যমে ১১টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আবাসন নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্ত উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ঠিকাদার ভিপি কুদ্দুস টেন্ডারমূলে ওই পাঁচটি আবাসন নির্মান কাজ হাতে নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে ভিটে ছাড়া করে রেখেছেন বলে অভিযোগ।
এ ব্যপারে ঠিকাদার আঃ কুদ্দুস ওরফে ভিপি কুদ্দুসকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “বর্তমানে আমার আর্থিক দৈন্যতার কারনে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মান কাজটি সম্পন্ন করতে পারি নাই। ২৭ লক্ষ টাকা বিল উঠালেও সেই টাকা আমার পার্টনার নিয়ে গেছে। ফলে আবাসন নির্মানের বাকী কাজগুলো সম্পন্ন করতে আরও কিছুদিন সময় দিতে হবে”।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে ওই ঠিকাদার বাড়ীতে একতলা দালান নির্মান করতে আসার পর আমরা একমাসের জন্য বসত ঘর সরিয়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা একেজন একেক বাড়ীতে পরবাস থাকতে শুরু করি। কিন্ত ঠিকাদার কোনোভাবে দালান ঘর খাড়া করে দুই কিস্তি বিল উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে আর বাকী কাজ করতে আসে নাই। একতলা দালান নির্মানের অসমাপ্ত কাজের মধ্যে প্রতিটি ঘরের ফোর, দরজা, জানালা, গোসলখানা, বাথরুম, টাইলস, বিদ্যুৎ ওয়ারিং কাজ, চুনকাম ও স্যানিটেশন কাজগুলো বাকী রয়েছে।
মঙ্গলবার ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ মান্নান (৭০) জানান, “ আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাতটি মেয়ে সহ আমরা নয়জন। দিনের বেলায় বসতভিটেয় ঘুরাঘুরি করে সময় কাটাই। কিন্ত রাত হলেই এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে পরবাসের জন্য যুবতী মেয়েরা ধরনা দিচ্ছে। ওই ঠিকাদার ভিপি কুদ্দুসের জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। তিনি আরও জানান, প্রশাসনকে বার বার অবগত করার পরও কেউ আমাদের খবর রাখেন নাই”।
তবে, এ ব্যপারে উপজেলা উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান টিটু বলেন, “ মুক্তিযোদ্ধাদের আবাস নির্মানে বিড়ম্বনার দায় উল্লেখ করে ঠিকাদার ভিপি কুদ্দুসকে তিন দফায় তিনটি নোটিশ/চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও সে সজাগ না হলে ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে”।
আর মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেহেদী মোর্শেদ বলেন, “উপজেলায় আমার নতুন পোষ্টিং হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মানে বিড়ম্বনার বিষয়টিতো এক বছর আগেই সমাধান হওয়ার দরকার ছিল। তবুও আবাসন নির্মান কাজটি যাতে দ্রæত সম্পন্ন হয় সে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে”।

#
মোঃ মেজবাহ উদ্দিন
চরভদ্রাসন, ফরিদপুর
তাং-০৭/১১/২০২৩খ্রি.

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

মে ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।