• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফরিদপুরের জনগণকে ঘরে রাখতে কঠোর জেলা প্রশাসন

ফরিদপুরের জনগণকে ঘরে রাখতে কঠোর জেলা প্রশাসন

জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কর্মহীন, অসহায় ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ ঘরে নিরাপদে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। করোনা মোকাবিলায় কার্যক্রমের বিশদ বর্ণনা করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার প্রশাসনের এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলাজুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম (খাদ্য বিতরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচি), নিরাপত্তা তথা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সব ভাতা যথাযথভাবে উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অধীনে ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় ১০ টাকা কেজি মূল্যে চাল বিতরণ, উপকারভোগীদের মাঝে ভিজিডি বিতরণসহ নানামুখী কার্যক্রম। জেলা সদরে এবং প্রত্যেকটি উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে নিরন্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো লোক যেন বাইরে না থাকতে পারে, সে বিষয়ে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক কর্মহীন লোকদের সহায়তার বিষয়ে বলেন, জেলা সদরসহ ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬৯৮টি পরিবারের মধ্যে সরকারিভাবে প্রায় ৩শ টন চাল ও নগদ ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ৩৫৯ টন চাল ও ১২ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা মজুদ রয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রমের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, ইউনিয়ন ও পৌরসভার অতিদরিদ্র ও দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা করে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কেউ এই তালিকার বাইরে থাকলে বা অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা না পেয়ে থাকলে সরাসরি হটলাইন ০১৭০১৬৭০০০৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসনের টিম পৌঁছে যাচ্ছে খাদ্য সহায়তা নিয়ে। হটলাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দেড় হাজার মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখনো অব্যাহত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
করোনাসংক্রান্ত চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক জানান, জেলায় ও উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্তরে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৪০ সেট পিপিই এবং ৯ হাজার ৭৩৩টি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৬৪০ সেট পিপিই ও ৬ হাজার ১৭টি মাস্ক। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে ১০০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৮৭ জন ডাক্তার ও ৯৭ জন নার্স প্রস্তুত রয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের জন্য ৩টি অ্যাম্বুলেন্স পৃথকভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজেই সম্ভাব্য করোনা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং কারোর সুচিকিৎসার প্রয়োজন হলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রক্ষিত ১৬টি আইসিইউর মাধ্যমে সেবা প্রদান করাও সম্ভব হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।