• ঢাকা
  • শনিবার, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২৪ ইং

নির্দেশ মানছে না কেউ

বোয়ালমারীতে জেএসসি রেজিষ্ট্রেশনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন-চার গুণ অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুসারে শিক্ষার্থীপ্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি ৬০ টাকা। সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৩০০ টা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এ বছর বোয়ালমারী উপজেলার একটি  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জেএসসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন চলছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে দেখাশোনা করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থাকলেও দুর্নীতির বিষয়ে তাঁরা কিছুই স্বীকার করেন না। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলেও তাঁরা কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেন না। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না। এর ফলে প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মিলেমিশে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, জেএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৫০ টাকা। বিলম্ব ফিসহ ৬০ টাকা। ১৫ মার্চ থেকে অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন চলবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। রেজিস্ট্রেশন ফি (জরিমানা ছাড়া) ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০০ থেকে ৪০০ টাকা নিচ্ছে।
উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি হিসাবে প্রত্যেকজন থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে আট গুণ বেশি।
সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মোসা. সাদিয়া ও দিলরুবা জানান,’আমাদের বিদ্যালয়ে জেএসসি রেজিষ্ট্রেশন বাবদ ৪০০ টাকা করে নিয়েছে।’ এ টাকা থেকে কোনো কম নেওয়া হচ্ছে না।
সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, ‘আমি ছিলাম না। সব শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার পর্যন্ত ৪০০ টাকা করে আদায় করেছে। আগামীকাল ম্যানেজিং কমিটির সভা আছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাকা আদায় করা হবে, যাদের কাছ থেকে বেশি নেওয়া হয়েছে তাদের বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’
বোয়ালমারী পৌরসদরের জর্জ একাডেমির ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। এখানে রেজিস্ট্রেশন ফি হিসাবে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে চার গুণ বেশি।
উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশনে ছাত্র-ছাত্রী প্রতি নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা করে।
চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেতু বলেন, ‘আমাদের নিকট থেকে রেজিষ্ট্রেশন ফি বাবদ ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।’
অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আজিজ  বলেন, ‘বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি আমরা নিচ্ছি।’
মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ফির নামে যে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চাপানো যাবে না। কারণ ওই বাড়তি ফির এক টাকাও প্রতিষ্ঠান পাবে না। তাই বলা যাবে না যে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতি করছে! বলতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দুর্নীতি করছেন। রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন পরীক্ষা, ফরম পূরণ, ভর্তি ফি ও প্রবেশপথ বিতরণের সময় কেন্দ্র সুবিধার নামে অতিরিক্ত যে অর্থ উঠানো হয় তার ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে তা প্রধান শিক্ষকরা খেয়ে ফেলেন। এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষকরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারেন না। সামনের পর দুর্নীতি দেখেও সব মুখ বুজে সহ্য করতে হয়।’
বোয়ালমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আমি কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোনে অতিরিক্ত টাকা নিতে নিষেধ করেছি। কিন্তু আমার নিষেধ কেউ মানছে না। এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই।’
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ বলেন, ‘টাকা বেশি নেওয়ার বিষয়টি আমাকে ৪-৫ জন বলেছে। রশিদ ছাড়া কেউ যেন লেনদেন না করে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।