• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং
করোনার ভ্যাকসিন কে আগে পাবেন, দ্বন্ধ কোন পর্যায়ে ?

সবার আগে কারা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাবেন? মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী মাসের শেষের দিকে প্রাথমিক ডোজ বিতরণের খসড়া নির্দেশিকা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি অনেক মানুষকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ড. ফ্রান্সিস কলিন্স সম্প্রতি সরকারের একটি পরামর্শক গোষ্ঠীকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রশ্নটির জবাব সবাই পছন্দ করবে না। অনেক মানুষ রয়েছেন যারা মনে করেন তালিকার সবার উপরে তাদের থাকা উচিত।

চিরাচরিতভাবে যেকোনও রোগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হলে প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী ও সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দেওয়া হয়। কিন্তু এবার মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কলিন্স নতুন ধারণা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, এবার ভৌগোলিক অবস্থান এবং মহামারিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত এলাকার মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এছাড়া ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের, যাদের ডামি ডোজ দেওয়া হয়েছিল তারাও প্রথম তালিকায় থাকবেন। কলিন্স বলেন, আমরা তাদের কাছে ঋণী। ফলে তারা বিশেষ প্রাধান্য পাবেন।

এবারের গ্রীষ্মে বড় ধরনের গবেষণা চলছে, যাতে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিন প্রকৃতপক্ষে কার্যকর কিনা তা নিশ্চিত হবে। মডার্না ও ফাইজার গত সপ্তাহে পৃথকভাবে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দেহে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মাসে আস্ট্রাজেনেকা (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়), জনসন অ্যান্ড জনসন ও নোভাভ্যাক্স বড় আকারে স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে পরীক্ষামূলক ডোজ প্রদান করবে। চীনের কয়েকটি কোম্পানির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনও কয়েকটি দেশে ছোট আকারে চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষায় প্রবেশ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডোজের আগাম সরবরাহ নিশ্চিত করার বিশাল প্রতিশ্রুতির পরও কঠিন সত্য হলো, এই বছরের শেষের দিকে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হলেও যাদের প্রয়োজন তাদের সবাই ভ্যাকসিন পাবে না। বিশেষত যখন সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলোর দুটি ডোজ প্রয়োজন হবে।

এটি বৈশ্বিক উভয় সংকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ‘কারা প্রথমে ভ্যাকসিন পাবে’ প্রশ্নের মুখে জর্জরিত হচ্ছে। সংস্থাটি চেষ্টা করছে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, বিত্তশালী দেশগুলো সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ কিনে বাজারকে একপাশে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটি অব ইমিউনাইজেশন প্র্যাকটিস নামের একটি গোষ্ঠী কাদের এবং কখন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে তা সম্পর্কে সুপারিশ করে। এই পরামর্শগুলো মার্কিন সরকার সাধারণত সব সময় অনুসরণ করে।

কিন্তু এখনকার সময়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে সিদ্ধান্ত খুবই কৌশলী হবে যে, ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব মেডিসিনের নীতিশ্বাস্ত্রবিদ ও ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞদের সরকারকে পরামর্শ দেওয়া ও ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।

বসন্ত নির্মূলে ভ্যাকসিন প্রকল্পের কৌশল নির্ধারণে পরামর্শ দেওয়া বিল ফায়েজ বলেন, অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রয়োজন হবে সৃজনশীল, নৈতিক কাণ্ডজ্ঞান। তিনি করোনার ভ্যাকসিন প্রকল্প একই সঙ্গে সুযোগ ও বোঝা।

ভ্যাকসিন নিয়ে গুজবের প্রচার এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও রয়েছে। সিডিসি’র পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড বলছেন, জনগণ যেনও দেখতে পায় ভ্যাকসিনের বরাদ্দ যথার্থ, ন্যায্য ও স্বচ্ছ হয়েছে।

এতক্ষণেও শুরুর প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি। কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভ্যাকসিন বিতরণের অগ্রাধিকার নির্ধারণে। সিডিসি’র প্রাথমিক পরামর্শ হলো: প্রথমত, ১ কোটি ২০ লাখ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাপর জরুরি কর্মী। দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা বৃদ্ধাশ্রমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত ৬৫ বছরের বেশি বয়সের বা স্বাস্থ্য জটিলতায় থাকা অথবা যাদের জরুরি কাচের জন্য আবশ্যক বলে মনে করা হয় এমন ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। এরপর আসবে সাধারণ জনগণের পালা।

সিডিসি’র ভ্যাকসিন উপদেষ্টারা জানতে চাইছেন প্রকৃত অর্থে কারা আবশ্যক। লস অ্যাঞ্জেলসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. পিটার জিলাগি স্বীকার করেছেন, আমি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবে বিবেচনা করি না।

কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, অতীতের মহামারির তুলনায় করোনায় স্বাস্থ্য-কর্মীদের ঝুঁকির মাত্রায় অনেক পার্থক্য রয়েছে। এখন করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় স্বাস্থ্য-কর্মীরা অনেক বেশি সুরক্ষিত। অন্যরা হয়ত এরচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাত বাদে ‘আবশ্যক’ বলতে কোন খাতকে বলা হবে? পোল্ট্রি ফার্মের কর্মী না স্কুল শিক্ষকরা? আর যদি ভ্যাকসিনটি তরুণ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারীসহ ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দেহে কাজ না করে তাহলে কী হবে? ফ্লু ভ্যাকসিন বয়স্কদের ইমিউন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করতে না পারায় বিষয়টি বড় ধরনের উদ্বেগের।

আরকানসাসের অন্তর্বর্তীকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও এসিআইপি চেয়ারম্যান ড. হোসে রোমেরো বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিন ও নেটিভ আমেরিকানদের আক্রান্তের অসমতা, বৈচিত্র্যতা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থতার ফলে যাই হোক না কেন তা সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির ড. শ্যারন ফ্রে এই বিষয়ে আরও যোগ করে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে শহুরে দরিদ্রদের কথা বিবেচনা করুন তাদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নেই এবং সুবিধা প্রাপ্ত আমেরিকানদের মতো ঘরে বসে কাজ করতে পারছেন না।

আর নর্থওয়েল হেলথ’র ড. হেনরি বার্নস্টেইন বলছেন, কোনও পরিবারের একজনকে না দিয়ে পুরো পরিবারকে ভ্যাকসিন দেওয়াটা বেশি কার্যকরী হবে।

যারাই প্রথম ভ্যাকসিন পান না কেন গণ ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে দীর্ঘ লাইন হয়। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু মহামারির সময় পার্কিং লট ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পালা আসার অপেক্ষায় অনেক পরিবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থেকেছে। কর্তৃপক্ষ জানে যে, এবার এমন ভিড় অবশ্যই এড়াতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বিতরণ গতিশীল করতে ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’ গ্রহণ করেছে। যখনই ভ্যাকসিন প্রদানের ঘোষণা আসুক না কেন এই প্রকল্পে উপযুক্ত সংখ্যক ডোজ দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

সিডিসি’র ড. ন্যান্সি মেসোনিয়ের বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ড্রাইভ-থ্রু, পপ-আপ ক্লিনিক ও সব উদ্ভাবনী ধারণা বিবেচনা করা হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে ভ্যাকসিন কার্যকর ঘোষণার যতদ্রুত সম্ভব আমরা পরদিনই এসব কর্মসূচি শুরু করতে চাই।

সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

এপ্রিল ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।