• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং
পাবজির নেশায় বুঁদ! দিনের পর দিন বন্ধ খাওয়া-দাওয়া, ডিহাইড্রেশনে মৃত্যু কিশোরের

বারংবার বাবা-মায়ের বারণ সত্ত্বেও কর্ণপাত করেনি সে। শেষমেশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল তরতাজা একটা জীবন।

অন্ধ্রপ্রদেশের ইলুরু শহরে তার বাড়ি।
পাবজি খেলতে-খেলতে একদিন বাড়িতেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়।
আর তারপরই তার মা-বাবা তড়িঘড়ি তাঁদের পুত্রকে নিয়ে যান হাসপাতালে।

পাবজির নেশা আরও একটা প্রাণ কেড়ে নিল ভারতবর্ষে। দিনের পর দিন খাওয়া-দাওয়া নেই। স্নানপর্ব তো সেই কবেই মিটে গিয়েছে। এমনকী জলপান অবধিও ভুলে মেরেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের ১৬ বছরের সেই ছেলেটা। বারংবার বাবা-মায়ের বারণ সত্ত্বেও কর্ণপাত করেনি সে। শেষমেশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল তরতাজা একটা জীবন।
করোনাভাইরাসের কারণে দেশের নানান প্রান্তেই এখনও চলছে লকডাউন। স্কুল-কলেজে এখনও অবধি তালা। অনলাইন ক্লাস চলছে ঠিকই। কিন্তু ১৬ বছরের সেই ছেলেটি পড়াশোনা ভুলে মেতেছিল পাবজি-তে। এতটাই মেতেছিল যে, দিনের পর দিন খাওয়া-দাওয়া অবধি বন্ধ করে দেয়।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-র একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে যে, ডিহাইড্রেশনের কারণেই মারা যায় ছেলেটি। অন্ধ্রপ্রদেশের ইলুরু শহরে তার বাড়ি। পাবজি খেলতে-খেলতে একদিন বাড়িতেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। আর তারপরই তার মা-বাবা তড়িঘড়ি তাঁদের পুত্রকে নিয়ে যান হাসপাতালে। ডাক্তারেরা জানান যে, ছেলেটির ডায়েরিয়া হয়েছে। সেই হাসপাতালেই বেশ কিছু দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর গত সোমবার মৃত্যু হয় ছেলেটির।

কী ভাবে কমবে এই পাবজি আসক্তি? চিন্তা অভিভাবকদের…

চলতি বছরে জানুয়ারি মাসেই ঠিক এমনই এক কাণ্ড ঘটেছিল। পুণেতে পাবজির নেশায় মত্ত ২৫ বছরের এক যুবক মারা যান। ডাক্তারেরা জানিয়েছিলেন যে, অতিরিক্ত গেম খেলার জন্যই ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল তাঁর। স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, হার্শাল মেমানে নামের ওই ব্যক্তি পাবজি খেলার সময়ে প্রায়শই নিজের হাত-পা নাড়াচাড়া করতে পারতেন না। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হলে জানা যায়, ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। কিছু দিনের মধ্যেই মৃত্যু হয়।
তবে এগুলিই প্রথম নয়। এর আগেও বহু বারই এই গেম প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের। তবে এই পাবজি-র নেশায় সব থেকে বেশি আসক্ত পড়ুয়ারাই। আর দেশজুড়ে নানান সময়ে পাবজির নেশায় প্রাণ হারিয়েছে পড়ুয়ারাই। কিছু দিন আগেই চিনা আক্রমণে ভারতের বেশ কিছু জওয়ান শহিদ হওয়ার পর দেশজুড়ে চিনা পণ্য ব্যান করার দাবি ওঠে। দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানছে বলে, সরকারের তরফে দুই দফায় বেশ কিছু চিনা অ্যাপ ব্যানও করা হয়। কিন্তু পাবজি ব্যান করা হয়নি।
এমনকী নানান বয়সের পড়ুয়াদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখেও শোনা গিয়েছিল পাবজির কথা। সে দিন এক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, গেমের নেশায় বুঁদ তাঁর সন্তান কিছুতেই পড়াশোনা করতে চাইছে না। আর তার উত্তরেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আপনার ছেলে কি পাবজি খেলে?’

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

এপ্রিল ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।