• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং
করোনায় বাজারে নিত্যপণ্য সহনীয় নেই

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। তারা একসঙ্গে বেশি পরিমাণে পণ্য কিনে রাখছেন। তবে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা তিন কারণে বেশি কেনাকাটা করছে। প্রথমত, বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, করোনভাইরাস সচেতনতায় একসঙ্গে বেশি বাজার করে রাখা। তৃতীয়ত, এলাকা বন্ধ (শাটডাউন) ঘোষণা করা হলে পণ্যের সংকট হতে পারে। এসব কারণে বাজারে মানুষের বাড়তি কেনাকাটায় চাপ পড়েছে। ইতোমধ্যে চাল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ও ডিমের দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন যারা বিপুল পরিমাণে কিনে রাখছেন, তাদের কয়েক দিন পরই আফসোস করতে হতে পারে। পণ্যের ঘাটতি নেই। তাই কয়েক দিন পর চাপ কমে গেলে দাম কমে যেতে পারে। আর এখন যারা বেশি কিনছেন, তারা এক- দেড় মাসে আর বাজারে আসবেন না। ফলে বাজারে চাহিদা কমবেই।

রাজধানীর রামপুরা বাজারের মুদি দোকানি মো. শাহ আলম বলেন, কয়েক দিন ধরে মানুষের ব্যাপক ভিড়। যার লাগবে এক বস্তা, সে কিনছেন তিন বস্তা। পরিচিত ক্রেতারা ফোন করলে তাদের কয়েক দিন পরে কেনার পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনিও জানান, চালের দাম দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে। মসুর ডাল তিন-চার টাকা বাড়তি। পেঁয়াজ-রসুনের দাম বেশ বেড়েছে। এখন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ টাকা ও চায়না রসুন ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। তবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকাররা পেঁয়াজ (পাল্লা প্রতি) ৫ কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। যা খুচরা বাজারের বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে। তিন দিন আগে তা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আর চীনা রসুন বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি, দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। যা গত তিন দিন আগেও ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

রামপুরা বাজারে আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা ও ফার্মের ডিম ১০০ টাকা ডজন দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। ডিম বিক্রেতা বলেন, তিন দিন আগে ডিমের ডজন ৯০ টাকা ছিল।

চালের দাম বাড়ল কেন, জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের কুমিল্লা রাইস এজেন্সির মালিক কাওসার রহমান বলেন, এখন মৌসুমের শেষ সময়। কিছুদিন পরে নতুন চাল উঠবে। হঠাৎ বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, কয়েক দিনে প্রতি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে

অন্যদিকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মহিউদ্দিন রাজা বলেন, মিল মালিকদের অনেকেই নতুন সরবরাহ আদেশ নিচ্ছেন না। এতে বাজারে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমস্যা হলো, আতঙ্কের কেনাকাটায় দোকানিরা ক্রেতাদের কাছ থেকে যেকোনো দাম চাইতে পারছেন। এতে একেক জায়গায় পণ্য একেক দামে বিক্রি হয়েছে।
বাজারে বিদেশি শিশুখাদ্যের দাম অনেকটাই বাড়তি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের দোতলায় এক দোকান মালিক বলেন, মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা একটি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের ১ হাজার ৮০০ গ্রামের জারের কেনা দর ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা। বিক্রি করতাম ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এখন সেটা কিনতেই হচ্ছে ৩ হাজার টাকার বেশি দামে। একইভাবে বিদেশি কয়েকটি ব্র্যান্ডের ডায়াপারের দাম প্যাকেটপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কিচেন মার্কেটের দোকান মালিক জাকির হোসেন বলেন, দেশি পণ্যের কোনো অভাব নেই। আর যারা হুজুগে কিনছে, তাদের আমি একটির বেশি দিচ্ছি না।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, দেশে করোনভাইরাস যে আকাড়ে বাড়ছে, তা সামনে ভয়াবহ আকাড় ধারণ করতে পারে। যে ধারণা থেকে আগে থেকে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো কিনে রাখছি। এ ছাড়া শোনা যাচ্ছে, সরকার কিছু কিছু এলাকা বন্ধ করে দিতে পারে। যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পণ্যের সংকট ও দাম বেড়ে যেতে পারে
রামপুরায় বাজার করতে আসা সফিকুল ইসলাম বলেন, এক মাসের বাজার একবারে কিনে নিলাম। কারণ করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। জনসমাগম এলাকা থেকে দূরে থাকতে সরকারের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য নিজের সচেতনতা বোধ থেকে বেশি করে প্রয়োজনী পণ্যগুলো কেনাকাটা করে নিলাম।

অন্যদিকে গত বুধবার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বই আক্রান্ত হয়েছে। চাল ও গম নিয়ে ভোক্তারা যেন আতঙ্কিত না হয়। কোনো ব্যবসায়ী বা মিলার যদি এটাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন তবে সরকার ও খাদ্য মন্ত্রণালয় কোনোক্রমেই চুপচাপ বসে থাকবে না।

আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে; মূল্যও স্বাভাবিক রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করার প্রয়োজন নেই।

সংবাদ সুত্র ঃ প্রতিদিনের সংবাদ

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ফেব্রুয়ারি ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।