• ঢাকা
  • বুধবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ ইং

চরের ভুমি খেঁকোদের দৌরাত্ম কমেনি-

চরভদ্রাসনে মাসের পর মাস অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন

হুমকীর মুখে সরকারি বৃক্ষ বাগান, দেখার কেউ নেই

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর অপর পারের চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটিশালেপুর চর মৌজার বিশাল সরকারি বনজ বৃক্ষ বাগান ঘেষে খাস জমিতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাসের পর মাস ধরে চলছে বালু উত্তোলন বাণিজ্য চালাচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত আঃ বারী খানের ছেলে ফেরদৌস খান (৫০)। তিনি কারো কথা তোয়াক্কা না করে, প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে, সরকারি বাগান ঘেষে খাস জমি খনন করে গভীর পুকুর তৈরী করে ফেলছেন। এতে চরম হুমকীর মুখে পড়েছে উপজেলার ১০৮ একর জমির উপর গড়া উক্ত চরের প্রায় ১৯ বছরের পুরোনো সরকারি বনজ বৃক্ষ বাগান ও আশ পাশের ফসলী জমি।
উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রায় মাসিক সভায় অবৈধ ড্রেজার চালনার বিষয়টি বার বার উন্থাপন হওয়ার পরও উক্ত চরে বহাল তবিয়তে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের উৎসব চলছে। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা কবির ত্রপা বলেন, “উক্ত চরে বহুবার আমি ড্রেজার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। দুর্গোম যাতায়াত ব্যবস্থা। কোনোভাবে অভিযানের সংবাদ পেলেই ড্রেজার মালিকরা মেশিন বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তাই অনেক সময় হাতেনাতে ড্রেজার জব্দ করা সম্ভব হয় না”।
আর সোমবার, উক্ত ড্রেজার মালিক ফেরদৌস খানকে কার অনুমতিতে সরকারি বৃক্ষ বাগানের পাশে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন ? প্রশ্ন করলে তিনি মুঠোফোনে জানান, “আরে উপজেলায়তো ভাই-ব্রাদাররা আছেই, তারাই দেখে শুনে রাখে, খোঁজ খবর দেয়”। উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির বেপারী বলেন, “ ভাই চরাঞ্চলে ভোটের রাজনীতি করি। তাই অনেক কিছু দেখেও বলতে পারি না”।
স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানায়, বিগত ১০ বছর ধরে ওই চরের ভুমি খেকো বাঘ নামে পরিচিত ফেরদৌস খান একটানা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি বুঝতে পারলে ফেরদৌস খান ড্রেজার মেশিন খুলে লুকিয়ে রাখে, আবার চরাঞ্চলের কোথাও মাটি ভরাট কাজ চুক্তি নিয়ে সরকারি বৃক্ষ বাগান বা পদ্মার ভাঙন কবলিত কোনো খাড়ির আড়ালে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন ব্যবসা চালু রাখছে। আর চরাঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকাগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্গোম বলে ফেরদৌস খান খুব সহজেই সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভুমি দস্যুতা সহ বৃক্ষবাগান ধ্বংসের পায়ঁতারা করে পার পাচ্ছেন বলে জানা যায়।
উপজেলা বনবিভাগ সূত্র জানায়, ফেরদৌস খান উক্ত চরের ভাটি শালেরপুর সরকারি বৃক্ষ বাগানের সংলগ্ন জমিতেই ড্রেজারে বালু উত্তোলন করে গভীর পুকুর গড়ে ফেলেছে। বষা মৗসুমে পদ্মা নদীর তীব্র ¯্রােতের কোপে পড়লে বৃক্ষ বাগানটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে উপজেলা পদ্মা নদীর চরশালেপুর মৌজার উন্মুক্ত চরাঞ্চল জমিতে মোট ৬৫ হেক্টর বা ১০৮ একর জমির উপর দু’টি বনজ বৃক্ষ নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন উপজেলা পরিষদ। উক্ত দু’টি বাগানে মোট ৯৭ হাজার বনজ বৃক্ষ রোপন করা হয়। বাগানে এসব বনজ বৃক্ষর মধ্যে আকাশ মনি, শিশু, রেন্ডি কড়াই ও মেহগণি সহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, উপজেলার পদ্মা চরের ভাটি শালেপুর মৌজায় বিশাল সরকারি বাগানের প্রায় ৩৩ শতাংশ উন্মুক্ত ডোবা জমিতে ফেরদৌস খানের বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মেশিন চালু রয়েছে। আজাহার (৩০) নামক একজন লেবার মেশিনটি পরিচালনা করেেছন। এ ড্রেজার মেশিন থেকে পাইপ লাইন টেনে গ্রামের মধ্যে নিয়ে মাটি সরবরাহ করা হয়েছে। উপস্থিত লেবার আজাহার জানায়, “ বাগনের মধ্যে ড্রেজার মেশিনটি ফেরদৌস খান মাস খানেক ধরে সেট করে বালু উত্তোলন করছে। আমি দিন গেলে ৭০০ টাকা বেতনে চাকুরী করছি। আমাকে যখন যা হুকুম করে আমি তাই করি”।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ক’বছর ধরে ফেরদৌস খান উপজেলার দু’টি বৃক্ষ বাগানের ঝোপের আড়ালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দফায় দফায় বালু উত্তোলন ব্যাবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। অবশ্য, প্রতি বছর উপজেলার প্রায় অর্ধেক কৃষি উৎপাদনের বাম্পার ফলন আসছে পদ্মা নদীর উক্ত চরগুলোর উর্বরা জমি থেকে। আর সেই জমিগুলোর উপর চরাঞ্চলের ভুমি খেকো বাঘ ড্রেজার মালিকদের সারা বছরের তান্ডব চালনার কারনে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর কড়াল গ্রাসের শিকার হচ্ছে। তাই সোমবার উপজেলার কৃষকরা চরের জোদ্দারদের অবৈধ ড্রেজার মেশিনের কবল থেকে আবাদী জমিটুকু বাঁচিয়ে রাখার জন্য উর্দ্ধতনদের কাছে দাবী জানিয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুলাই ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।