• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং

নাব্যতা সংকট

চরভদ্রাসনে শুকিয়ে গেছে গোপালপুর ঘাট, ড্রেজিংয়ের অভাবে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী নৌরুট

নাব্যতা সংকটে চরভদ্রাসনে শুকিয়ে গেছে গোপালপুর ঘাট,ড্রেজিংয়ের অভাবে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী নৌরুট

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর জনবহুল গোপালপু-মৈনট লঞ্চ ঘাট পাড় থেকে প্রায় এক কি.মি এলাকার পানি শুকিয়ে গত এক মাস ধরে বালু মাটির স্তুপ পড়ে রয়েছে। এতে নৌযান চলাচল চরম বিঘ্ন ঘটছে। যদিও ঘাট ইজারাদার পদ্মা নদীর গোপালপুর ঘাটে ও অপর পারের চর মৈনট পয়েন্টে দু’টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে খাল খনন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্ত জোয়ার-ভাটার পদ্মা নদীতে প্রায় সময়ই যাত্রীবাহী ট্রলার ও ষ্পীডবোট চলাচল বিঘ্ন ঘটছে বলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এতে প্রায় সোয়া ছয় কোটি টাকা বার্ষিক ইজারা মূল্যের ঘাটটি ড্রেজিংয়ের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘকাল ধরে উপজেলার গোপালপুর-মৈনট নৌরুট দিয়ে আশপাশের নগরকান্দা, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলা সহ অত্র এলকার হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন। এ নৌপথ দিয়ে যাত্রীরা স্পীড বোটে মাত্র ২০ মিনিটে পদ্মা নদী পাড় হতে পারেন। অপর পাড়ের দোহার উপজেলার কার্তিকপুর এলাকা থেকে যাত্রীরা মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে ঢাকা পৌছতে পারেন। তাই অত্র অঞ্চলের ঢাকাগামী যাত্রীরা বেশীরভাগ গোপালপু-মৈনট ঘাট দিয়ে পদ্মা নদী পাড় হয়ে ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন।

সরেজমিনে উপজেলার গোপালপুর ঘাট ঘুরে জানা যায়, উপজেলা সদরে গোপালপুর ঘাটপার থেকে পূর্বদিকে প্রায় এক কি.মি. পদ্মা নদীর বুক জুড়ে বালু মাটির উচু ডিবি পড়ে রয়েছে। উক্ত বালু চরের পদ্মা পার পয়েন্টে ঘাট ইজারাদাররা একটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে চিকন খালাকৃতি করে খনন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্ত পদ্মার নদীর জোয়ার ভাটার কারনে প্রায় সময় যাত্রী পারাপারের ট্রলার ও ষ্পীডবোট গুলো চলাচল করতে পারছে না। ফলে যাত্রীরা তাদের ল্যাকেস ও ব্যাগসহ শিশু বাচ্চাদের নিয়ে দুর্গোম বালুচরের মধ্যে হেঁটে হেঁটে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। রাজধানী ঢাকা ফেরা এক যাত্রী রাশেদ খান (৫৫) জানান, “ ষ্পীডবোটের ভাড়াতো ১৭০ টাকা ঠিকই দিলাম, কিন্ত ২০ মিনিট সময়ের পদ্মা পার হতে প্রায় এক ঘন্টা লেগে গেছে। এরপরও প্রায় এক কি.মি. বালুচর হেটে আসতে হয়েছে। তিনি এ নৌরুটে আর আসবেন না বলেও জানান”।

উক্ত ঘাট ইজারাদার বাবুল শিকদার জানান, ‘গত বছর ঢাকা কমিশনার অফিস থেকে গোপালপুর-মৈনট ঘাটটি মোট ৬ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজার ২শ’ টাকা মূল্য দিয়ে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। এরমধ্যে ঘাটের মূল ডাক ৫ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ভ্যাট ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৬৫০ টাকা ও ২৬ লাখ ৫৫০ টাকা আয়কর সহ মোট ৬ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজার ২শ’ টাকা ঘাটের ইজারা মূল্য দিতে হয়েছে। এতো টাকা দিয়ে ঘাট নেওয়ার পর করোনা ভাইরাসের কারনে এ বছর ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সরকার ঘাটের সমস্ত নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে। এখন আবার পদ্মা পার শুকিয়ে এক কি.মি. এলাকা উচু বালুচর পরেছে। ফলে এ ঘাটে আগের চেয়ে এখন অনেক যাত্রী কমে গেছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে বিডাব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে ঘাট বরাবর মধ্য পদ্মা ড্রেজিং করা হয়েছে। উক্ত ডেজিংয়ের ফলে গোপালপুর ঘাটের পদ্মা পারে আরও বেশী পরিমান বালুচর পড়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও জানান, ঘাটটি চালু রাখার জন্য নিজেদের খরচে পদ্মা নদীর দু’পারে দু’টি ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন ১২ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত খরচ করে চলেছি। কিন্ত জোয়ার ভাটার পদ্মায় তাতেও ভালো ফল পাচ্ছি না। উক্ত ঘাটটি ইজারা নিয়ে এ বছর তিনি বড় অংকের গচ্চা দিয়েছেন। তাই এ অবস্হায় গোপালপুর ঘাটটি সরকারকে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে আগামীতে কেউ ইজারা নিবেন না বলে জানান তিনি। তাই উক্ত ঘাটটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ড্রেজিং কর্মসূচী বাস্তবায়নের জোর দাবী তোলেছেন এলাকাবাসী।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ফেব্রুয়ারি ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জানুয়ারি  
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।