• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ ইং
করোনায়  কেউ কেউ কেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কারণ? 

আপনার হয়তো হাঁচির সমস্যা ছিল। ৫ কিংবা ১০ দিন ধরে হয়তো আপনার কাশিসহ জ্বর ও ক্লান্তি ছিল। কিংবা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আপনাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল, আপনার ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছিল এবং শরীরের ওপর দিয়ে একটি ইমিওনোলজিক্যাল ঝড় বয়ে গেল। কিংবা পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপ হয়ে কেউ মারাও যেতে পারে।

গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়া এমন একটি রোগে কেউ যখন মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন সেটি কী নির্ধারণ করে? আপনি হয়তো বিস্তৃতভাবে অধিক ঝুঁকিতে থাকা লোকদের সঙ্গে পরিচিত: বৃদ্ধ, পুরুষ, যাদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে যারা শ্বেতাঙ্গ নয় তারা। কিন্তু গবেষকরা আরো গভীরে গিয়ে তাদের দুর্বলতার জন্য জৈবিক ও সামাজিক কারণগুলো খতিয়ে দেখতে চাচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে ইমিউন সিস্টেম যেভাবে বদলে যায় তার সঙ্গে বয়স সম্পর্কিত ঝুঁকিকে যুক্ত করছেন গবেষকরা। তারা ইমিউন প্রতিক্রিয়ার জন্য পুরুষ-নারীর যে পার্থক্য তাকে পরীক্ষা করে দেখছেন। কিছু বিজ্ঞানী আবার জেনেটিক পরিবর্তনের অনুসন্ধান করছেন, যা কিনা সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। আবার অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কারণগুলোর ওপর। যেখানে বর্ণবাদও যুক্ত রয়েছে।

বয়স কীভাবে ইমিউনিটিকে প্রভাবিত করে

বয়স সম্ভবত করোনাভাইরাস কীভাবে একজনকে অসুস্থ করবে তার সবচেয়ে বড় একক নির্ধারক। চীনে যেখানে মহামারী শুরু হয়েছে সেখানে নিশ্চিত কেসগুলোর মাঝে ২.৩ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু ৭০ থেকে ৭৯ বছরের মানুষের মাঝে এটি আবার ৮ শতাংশ। যাদের বয়স ৮০ বছরের বেশি তাদের মৃত্যুর হার ১৪.৮ শতাংশ। নিউইয়র্ক সিটিতে মৃত্যুবরণ করা প্রায় অর্ধেক মানুষ বয়স্ক। যাদের বয়স ৭৫ বা এর বেশি। জুলাইয়ে নেচারে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, ৮০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষদের মৃত্যুর আশঙ্কা ৫০ বছরের মানুষদের চেয়ে ২০ গুণ বেশি।

নর্থওয়েল হেলথের ক্রিটিক্যাল কেয়ারের রিজিওনাল ডিরেক্টর মঙ্গলা নরসিংহ বলেন, বয়স আমাদের সবচেয়ে বড় পূর্বাভাস ছিল। নার্সিং হোমগুলোতে প্রবীণদের সংখ্যা বেশি, যেখানে সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়াতে পারে এবং প্রতিরোধের উপায়গুলোও পর্যাপ্ত না। এ পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য এটাও একটি কারণ। কিন্তু বায়োলজি সম্ভবত আরেকটি ফ্যাক্টর, বিশেষ করে বয়স্ক লোকদের ইমিউন সিস্টেম। বয়স যতই সামনে এগিয়ে যায় মানুষের শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কম কার্যকর হয়ে পড়ে। এই ক্ষয় একটি কারণ, কেন যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুয়েঞ্জায় ৯০ শতাংশ মৃত্যু ঘটে সেসব মানুষের যাদের বয়স ৬৫-এর বেশি এবং সে সঙ্গে ভ্যাকসিন কেন তাদের কম সুরক্ষা দেয় তারও। পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে বি সেল, যা কিনা অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং টি সেল, যা সরাসরি সংক্রমিত কোষকে হত্যা করে সেগুলো অধিক পরিমাণে অস্থিমজ্জা ও থাইমাস গ্ল্যান্ড তৈরি করতে পারে না। এছাড়া বয়স্ক লোকের দীর্ঘমেয়াদি রোগবালাইও অনেক বেশি থাকে, সেটিও তাদের করোনায় মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

কেন পুরুষেরা অধিক আক্রান্ত

লিঙ্গও কভিড-১৯-এর তীব্রতাকে প্রভাবিত করে। সংক্রমিত নারীদের তুলনায় পুরুষদের মৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ, যদিও লিঙ্গভিত্তিক এ ব্যবধান জায়গায় জায়গায় ভিন্ন হয়। যেমন ইতালিতে এ বসন্তে মৃতদের ৭০ শতাংশ হচ্ছে পুরুষ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এটি ৫৯ শতাংশ।

অবশ্য পুরুষদের মাঝে এ সংক্রমণ বেশি কিনা তা অস্পষ্ট, কারণ কাদের টেস্ট করা হবে তা নিয়ে পক্ষপাতিত্ব এবং দেশে দেশে বৈষম্য রয়েছে।

মলিকিউলার বায়োলজিস্ট সাবরা ক্লেইন নারীদের অপেক্ষাকৃত বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনাময় তিনটি জৈবিক ফ্যাক্টরের কথা বলেছেন। প্রথমত, নারীদের ইমিউন সিস্টেম সাধারণত বেশি শক্তিশালী। এর একাটি কারণ হতে পারে ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীদের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

দ্বিতীয় ফ্যাক্টরটি হলো লিঙ্গ পার্থক্য। ক্লেইনের মতে, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মাঝে পুরুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বেশি খারাপ থাকে, যেমন হার্টের সমস্যা, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস। যা কিনা করোনা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে। এসব সমস্যা নারীদের মাঝে একটু পরের দিকেই দেখা যায়। যা হয়তো তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করছে।

তৃতীয় সম্ভাব্য কারণ হতে পারে পুরুষের এক্স এবং নারীদের ওয়াই সেক্স ক্রোমোজোমের মাঝে পার্থক্য। ক্লেইন বলেন, দেখা যাচ্ছে যে ৬০টির অধিক জিন এক্স ক্রোমোজোমের ইমিউন ফাংশনে যুক্ত আছে। এটাও নারীদের অধিক সুরক্ষিত থাকার একটি কারণ। এছাড়া আচরণগত পার্থক্যও একটি অন্যতম কারণ। অনেক সংস্কৃতিতে দেখা যায় পুরুষ মানুষ অধিক ধূমপায়ী। যা কিনা রোগের পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তোলে। বিপরীতে মহিলারা অনেক বেশি প্রতিরক্ষামূলক আচরণের দিকে ঝুঁকছেন। একটি ডাটা বলছে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও গণপরিবহন এড়ানোর দিক থেকেও তারা পুরুষের চেয়ে ৫০ শতাংশ এগিয়ে।

জিনগত দুর্বলতা

সেক্স ক্রোমোজোমের পাশে অন্যান্য জিনও কভিড-১৯-এর তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে। দুজন বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়া গানা ও মার্ক ডালি গুরুতর অসুস্থ করে তোলার ঝুঁকি বাড়াতে বা কমাতে পারে এমন জিনগত বৈচিত্র্যগুলো অনুসন্ধান করার জন্য একটি বৈশ্বিক কনসোর্টিয়াম আয়োজন করেন। (বেশির ভাগ রূপগুলো জিনকে প্রভাবিত করে তাদের প্রধান কাজে কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে)। আরেকটি গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় অনুসন্ধান করে বের করেছে। গবেষকরা ক্রোমোজোম ৩-এর বিভিন্ন ধরনের ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছিলেন, যা কিনা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে মারাত্মক অসুস্থতা এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার জন্য দায়ী।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতাও কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুরুর দিকে নিউইয়র্ক সিটিতে হাসপাতালে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়াদের ৯৪ শতাংশের মাঝে অন্তত একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে এব ৮৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সেটি একাধিক।

এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণের ওপরও করোনার তীব্রতার মাত্রা নির্ভর করে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

এপ্রিল ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।