• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ ইং
পোড়ামাটির ফলকের প্রাচীন নবরত্ন মন্দির

পোড়ামাটির ফলকের প্রাচীন নবরত্ন মন্দিরটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের হাটিকুমরুল গ্রামে অবস্থিত। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ রোড থেকে ৫শ’ মিটার উত্তরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে হাটিকুমরুল বাজার অবস্থিত। বাজার থেকে পূর্বেদিকে ৫শ’ মিটার হেঁটে গেলে দেখা মিলবে প্রাচীন এই নবরত্ন মন্দিরের। এক যুগ আগেও মন্দিরের আশপাশে বাড়িঘর না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে চোখে পড়ত। কিন্তু বর্তমানে মন্দিরের চারদিকে বাড়িঘর থাকায় দূর থেকে এর সৌন্দর্য অবলোকন করা যায় না। তবে মন্দিরের কাছাকাছি জায়গা থেকে এর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

ইতিহাস থেকে জানা গেছে, জনৈক রামনাথ ভাদুড়ি মুর্শিদাবাদের নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে (১৭০৪-২৮ খ্রিস্টাব্দ) এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। হিন্দু স্থাপত্যের উজ্জ্বল নিদর্শন কারুকার্যমণ্ডিত নবরত্ন মন্দিরটি তিন তলাবিশিষ্ট। এই মন্দিরে ছিল পোড়ামাটির ফলকসমৃদ্ধ নয়টি চূড়া। এজন্য এটিকে নবরত্ন মন্দির বলা হতো। দিনাজপুর জেলার কান্তজিউর মন্দিরের অনুকরণে গঠিত তিনতলা এই মন্দিরের আয়তন ৬৫.২৪ বাই ৬৫.২৪। বর্গাকার মন্দিরটি প্রায় ২ ফুট প্ল্যাটফরমের ওপর তৈরি করা হয়েছে। মন্দিরের মূল কপাটটি বেশ বড়। চারদিকের দেওয়ালের বাইরের চারপাশে পোড়ামাটির ফলক দিয়ে সাজানো ছিল। সংস্কারের অভাবে সব নষ্ট হলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরটি অধিগ্রহণ করে এবং নতুন করে এর সংস্কার করে। মন্দিরটি ক্রমহ্রাসমান তিন তলাবিশিষ্ট। এলাকার লোকজন এটাকে দোলমঞ্চ নামেও পরিচিত করে তোলে। মন্দিরের ওপরের রত্ন বা চূড়াগুলো অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। নিচতলায় দুটি বারান্দাবেষ্টিত একটি গৃহ। এর বারান্দার বাইরের দিকে সাতটি এবং ভেতরের দিকে পাঁচটি খিলান বা প্রবেশপথ রয়েছে। গর্ভগৃহের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে দুটি প্রবেশপথ আর মন্দিরের দ্বিতীয়তলায় কোনো বারান্দা নেই। হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নবরত্ন মন্দির। মন্দিরটি পোড়ামাটির চিত্রফলক দ্বারা যে সাজানো তা দেখলেই বোঝা যায়। এখনও মাটির গায়ে সামান্য কিছু চিত্রফলকের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। এই মন্দিরটির কোনো শিলালিপি বা নির্ধারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে এই মন্দির ভাদুড়ি জমিদারের বাড়ির মন্দির নামেই পরিচিত। অনেকে মনে করেন, এই মন্দির খাজনা আদায়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নবরত্ন মন্দিরের বাইরে পূজার আয়োজন হলেও ভেতরে পূজা হতে দেখেনি কেউ। এমনিভাবেই নবরত্ন মন্দিরকে দেখে এসেছে এলাকার মানুষজন। প্রথমদিকে সরকারের পক্ষ থেকে নবরত্ন মন্দিরে পূজা আয়োজনের কথা বলা হলেও দুটো কারণে স্থানীয় হিন্দু পরিবাররা রাজি হয়নি। প্রজারা জমিদারি সম্পত্তি ব্যবহার করবে, তা তাদের কাছে যথাযোগ্য বলে মনে হয়নি।

এ এলাকায় এখনও দুই-তিন মাইল জুড়ে স্থানীয় মাপে তিন-চার পুরুষ অর্থাৎ ২০-২৫ ফুট মাটি খুঁড়লে পুরনো লম্বা প্রাচীর এবং সারি সারি ইটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, জমিদারি আমলের এই জমিদার বাড়ি মাটির নিচে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনও এটা বিশ^াস করে। তাদের ধারণা, মন্দিরগুলো জমিদার বাড়ির চেয়ে উঁচুতে ছিল অথবা দৈববলে মন্দিরগুলো মাটির নিচে হারিয়ে যায়নি। দোচালা ছনের ঘরের আদলে মন্দিরটির নাম নাটমন্দির, যা স্থানীয় লোকজনের ভাষায় বাংলামন্দির আটকোনা মন্দিরটা শিবমন্দির, বড় মন্দিরটা নবরত্ন মন্দির আর নবরত্ন মন্দিরটির পেছন দিকে আরেকটু ভেতরের দিকে অলঙ্করণ করা আরেকটি প্রায় গোলাকার শিবমঠ। এ নিয়েই হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির এলাকা।

খুবই ছিমছাম আর পরিচ্ছন্নতার জন্য জায়গাটা বেড়ানোর জন্য আসলেই সুন্দর। দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই এই মন্দির দেখতে আসে। এই মন্দির দেখে দর্শনার্থীরা অনেকটাই মুগ্ধ। বিশেষ করে ছুটির দিনে স্থানীয় দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় লক্ষ করা যায়।

বাইডেনের রানিংমেট ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসষ সময়ের আলো ডেস্কমার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন রানিংমেট হিসেবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিনেটর কমলা হ্যারিসকে বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি এই ঘোষণা দেন। বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। সিএনএন।

এক টুইট বার্তায় বাইডেন জানিয়েছেন, নাম্বার টু হিসেবে হ্যারিসকে বেছে নেওয়া তার জন্য বিরাট সম্মানের। আর কমলা হ্যারিস লিখেছেন, বাইডেন আমেরিকার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন। কারণ, সারা জীবন তিনি সবার জন্য লড়াই করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবেও এমন আমেরিকা গড়বেন, যা সবার জন্য আদর্শ হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জো বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবারও ট্রাম্পের রানিংমেট থাকবেন। ৭ অক্টোবর মাইক পেন্সের সঙ্গে বিতর্কে মুখোমুখি হবেন কমলা হ্যারিস। ৫৫ বছর বয়সি কমলা হ্যারিসই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং এশীয়-আমেরিকান নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দল ডেমোক্র্যাট থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত হলেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে। তার মা শ্যামলা গোপালান ছিলেন দক্ষিণ ভারতের তামিল। আর বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস ছিলেন জ্যামাইকান। শ্যামলা গোপালান ছিলেন স্তন ক্যানসার গবেষক। ইউসি বার্কেলিতে অ্যান্ডোক্রিনোলজিতে ডক্টরেট করার জন্য ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন তিনি। সেখানেই পরিচয় ডোনাল্ড হ্যারিসের সঙ্গে।

অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করতেন ডোনাল্ড। এ দম্পতির দুই কন্যা সন্তানের একজন কমলা হ্যারিস ও অন্যজন মায়া হ্যারিস। কমলার ছোট বোন মায়াও একজন রাজনৈতিক অ্যাকটিভিস্ট। ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা শিবিরে কাজ করেছেন তিনি। কমলার সাত বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন দুই বোন। ২০০৯ সালে মায়ের মৃত্যু হয়।

কমলা হ্যারিস নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও নিজের ভারতীয় শেকড়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। চেন্নাইয়ে নানারবাড়িতেও বেশ কয়েকবার সফর করেছেন। ৫৫ বছরের জীবনের একটা বড় সময় ওকল্যান্ড ও বার্কেলিতে কাটিয়েছেন কমলা। কিছু সময় কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্টে। আর মায়ের শিক্ষকতার চাকরির সুবাদে কয়েক বছর মন্ট্রিলেও থাকতে হয়েছে তাদের।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ^বিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন কমলা। ১৯৯০ সালে বার অ্যাট ল’ পাসের পর আলামেদা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর নিয়োগ পান স্যান ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে।

ওকল্যান্ডে সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করার সময় যৌন অপরাধকে প্রাধান্য দিয়েছেন কমলা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক যৌন কর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালিয়েছিলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়েছেন। তাদেরকে বুঝিয়েছিলেন, মেয়েদেরকে যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত অপরাধী বিবেচনা না করে ঘটনার শিকার হিসেবে দেখতে হবে।

২০০৩ সালে কমলা সেন্ট ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচিত হন। ২০০১ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলও নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে পুনঃনির্বাচিত হন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করার সময় অপরাধ বিষয়ক কঠোর নীতিমালার কারণে সংস্কারপন্থিদের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন কমলা হ্যারিস।

২০১৬ সালের সিনেট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হন কমলা। লরেট্টা স্যানশেজকে পরাজিত করে ক্যালিফোর্নিয়ার তৃতীয় নারী সিনেটর হন তিনি। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রতিনিধিত্বকারী দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান ও প্রথম দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল থেকে প্রার্থী হতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মনোনয়নের দৌড়ে নেমেছিলেন কমলা। একই দৌড়ে ছিলেন জো বাইডেন। সে সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। পরে প্রার্থিতা প্রত্যাশীর তালিকা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন কমলা।

তারই ৯ মাস পার সে জো বাইডেনের রানিংমেট হলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বড় দুই দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া তৃতীয় নারী তিনি। এর আগে এ পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন গেরালডিন ফেরারো ও সারাহ পলিন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

এপ্রিল ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।