• ঢাকা
  • শনিবার, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জুন, ২০২১ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
ফরিদপুর গেরদা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান মারা গেছেন

ফরিদপুর গেরদা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান মারা গেছেন( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি,গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের বার বার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান।

তিনি আজ সকাল ৯ টায় নিজ বাসভবনে ( খাবাসপুরে)  ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান।  তিনি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ছেলে ২ মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

ফরিদপুরের মানুষের অত্যান্ত প্রিয় মুখ চেয়ারম্যান জাহিদ এর মৃত্যুতে ফরিদপুর ও গেরদায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সংগঠন ও ব্যাক্তি তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শামসুল হক ভোলা মাষ্টার, পুলিশ সুপার মোঃ আলীমুজ্জামান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এ্যাডঃ সুবোল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মোল্লা, পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

চেয়ারম্যান জাহিদের প্রথম নামাজে জানাজা আজ শনিবার বাদ আসর বাখুন্ডা কলেজ মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা বাদ মাগরিব আলীপুর গোরস্তান জামে মসজিদে অনুষ্টিত হবে। পরে পুর্বখাবাসপুরস্থ পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড :

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ফরিদপুরের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লড়াই-সংগ্রামের যে কয়জন আলোকিত দক্ষ, নিবেদিত, জনপ্রিয় সংগঠক রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও গেরদা ইউনিয়নের ৪ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সকলের কাছে জাহিদ ভাই নামে পরিচিত। সংগ্রাম ও গৌরবের অধ্যায়ে একজন আত্মত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি তিনি।

১৯৭২ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝাঁঝালো রোদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এর ধারাবাহিকভাবে তিনি ফরিদপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন।

দর্শনগত ভাবে তিনি ফরিদপুরের মুজিব কোর্ট পড়া জাহিদ ভাই বলেও পরিচিত। তাঁর পোশাক, আচার, আচরণ এবং আধুনিকায়ন সকলকেই মুগ্ধ করতো। ১৯৭৫-৭৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক। ১৯৭৭-৭৮ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৩ সালে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৮৬ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯০ সালে তিনি জেলা যুবলীগের সংগ্রামী সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি ফরিদপুরে মুজিব আদর্শের হাতিয়ারকে শক্তিশালী করেছেন।

২০০৯ সালে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে অদ্যাবধি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে ইউ,পি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০১ সালে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তাকে ইউ,পি নির্বাচনে পরাজিত করেছিল অশুভ শক্তি। পরবর্তীতে তিনি ধারাবাহিকভাবে আর ৩ বার নির্বাচিত হয়েছেন। সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

আদর্শের স্থানে সবসময় নির্ভিক স্পষ্টবাদী এই নেতা আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে উজ্জীবিত করে আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শনকে বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চেতনাকে স্থাপন করেছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« মে  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০