• ঢাকা
  • সোমবার, ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুন, ২০২১ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
ফরিদপুরে পরকিয়ায় জড়িয়ে স্বামীকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক :- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চরকান্দা গ্রামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে হত্যা মামলার বাদি ওই নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও পুত্রসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরকিয়ার জেরে ওই গৃহকর্তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আদালতে প্রেরণের পর আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে পুলিশ জানায়।

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর ভাঙ্গার চরকান্দা গ্রামে বিল থেকে সেকেন্দার আলী মোল্ল্যা (৪৯) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম (৩৯) বাদি হয়ে নিহতের বড় ভাই খোকন মোল্যা, কবিরউদ্দিন ও খলিল মোল্যাসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ জমি ও রেল লাইনের অধিগ্রহণকৃত এজমালি সম্পত্তির টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধের কারণে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে হাফেজা বেগম এজাহারে অভিযোগ করেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলা রুজুর পর থেকেই ওই গ্রামের আতিয়ার রহমান ভুলু মোল্যা (৫৫) নামে এক ব্যক্তি তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। তিনি ভুলু মোল্ল্যার প্ররোচনাকেই মামলার মূল সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করলে রহস্য বেরিয়ে আসে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, নিহত সেকেন্দারের সাথে ভুলু মোল্যার ভাল সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে তার বাড়িতে যাতায়াত ছিল ভুলুর। বড় ভাই খোকন মোল্লা ও চাচাতো ভাই জমির মোল্লার সাথে রেলওয়ের অধিগ্রহনের আওতায় পড়া ২৭ শতাংশ জমির প্রাপ্ত টাকা ভাগ বন্টন নিয়ে বিরোধ ছিল সেকেন্দারের। অপরদিকে গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আতিয়ার রহমান ভুলুর (৬৫) সাথে খোকন মোল্ল্যার বিরোধ ছিল। এই সুযোগকেই কাজে লাগায় সে।একপর্যায়ে ভুলুর সাথে সেকেন্দারের স্ত্রী হাফেজার পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন সে সংসারের ঝামেলা ও টাকা পয়সার অভাবের কথা বলে স্বামীকে হত্যায় স্ত্রী হাফেজাকে প্ররোচিত করে।

তিনি জানান, ঘটনার আগের সন্ধায় হত্যার পরিকল্পনা মতো ভুলু হাফেজার হাতে চারটি ঘুমের বড়ি দিয়ে সেগুলো খাইয়ে দিতে বলে সেকেন্দারকে। পরেরদিন সন্ধায় কথামতো হাফেজা তার স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবার বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। তখন সে টলছিল। সেখানে ভুলু ও তার ছেলে সম্রাট মিলে তাকে মেরে ফেলে।

এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেকেন্দারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ নৌকায় তোলার সময় সেকেন্দারের ছেলে হোসাইন তাদের দেখে ফেলে। এসময় হোসাইনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে সাথে নিয়েই নৌকায় সেকেন্দারের লাশ তুলে বিলের মাঝে ফেলে রাখে।
মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার (৮ জুন) ভুলু মোল্যা ও তার ছেলে সম্রাটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাবাদে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে বলে পুলিশ জানায়।

গতকাল বুধবার সেকেন্দার মোল্যার স্ত্রী হাফিজা বেগম ও ছেলে হোসাইনকে শাহ মুল্লুকদি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃতদের ফরিদপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলী আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা বিচারক আসিফ আকরামের সামনে সেকেন্দার আলীকে হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« মে  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০