• ঢাকা
  • বুধবার, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho

বাপাউবো’র জরুরী ডাম্পিং চলছে.

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধ্বস এলাকাবাসী আতঙ্কিত

ফরিদপুরের চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ পদ্মা নদী ভাঙ্গন। গত দুই দশকে জেলা সদরের দুটি ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছেন অসংখ্য বসতবাড়ী, কৃষি জমি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে ফরিদপুর সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নস্থ সলিম বিশ্বাসের ডাঙ্গী এলাকার নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের এক কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র স্রোতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গনের কারনে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। তারা স্থানীয় রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অবগত করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুর মাঝ রাতে ভাঙ্গান এলাকা পরিবদর্শন করে জরুরীভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং-এর মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে।

নদী তীর সংলগ্ন বাসিন্দা নুরুদ্দিন বিশ্বাস (৭৫) বলেন, দেখেন না ভাইঙ্গা যাইতেছে। শুক্রবার বিকেল বেলা ভুরভুর শব্দে দেহি গাঙ্গের পাড় পানির স্রোতে গোলায় যাইতেছে। পাশেই আমার ঘর আমি এলাকার ব্যাবাকতেরে সতর্ক করি। চেয়ারম্যানকে ফোন করি। সারা রাত ঘুমাইতে পারি নাই। এলাকার আরেক বাসিন্দা মোঃ সাহেদ আলী বলেন, গোলডাঙ্গী ব্রীজ থেকে মাত্র ৫০-৭০ গজ দূরত্বে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে কোথা থেকে কোথায় এসেছি। এইটুকু জমি তাও যদি চলে যায় আমরা যাবো কোথায়। অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, নদীর পাড় থেকে মাটি কাটায় এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এলাকার আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, এলাকার কবির মোল্যা, জব্বার জমাদ্দার, মোফা, আবুসহ বেশকিছু বালু দস্যু দীর্ঘদিন ড্রেজার দিয়ে বালু করে আসছিল। কয়েক মাস আগেও প্রশাসন ড্রেজার জব্দ করে তাদেরকে জরিমানা করেছিল।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩০-৪০জন শ্রমিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭৫ কেজি ওজনের জিও ব্যাগে বালি ভর্তি করে মেশিনে সেলাই করছে। কেউ কেউ ভাঙ্গন কবলিত স্থানে বস্তাগুলো সারিবদ্ধ করছে। তীব্র স্রতে প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন স্থানে পানির ঘূর্ণি স্রোতে বাঁধের সিসি ব্লক নদী গর্ভে ধ্বসে গেছে। সেই সাথে গোলডাঙ্গী ব্রীজ রক্ষার দুপাড়েও সিসি ব্লক নরবরে অবস্থায় আছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক মুঠো ফোনে জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমি রাতেই এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করি। এক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পুনঃনির্মাণের দাবি জানাই।

ভাঙ্গন বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ এই বিষয়ে বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর মাধ্যমে প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে তিন হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি সরেজমিনে পর্যবেক্ষনে যাব। এর বাইরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোন কাজ করা সম্ভব নয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুন ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« মে  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০