• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ ইং
ভাঙ্গায় প্রচেষ্টা পরিবহনের স্টাফদের হাতে মাদ্রাসার ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ।। আটক-৩, থানায় মামলা।

মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা -৩১/৭/২০২৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রচেষ্টা পরিবহনের স্টাফদের হাতে মাদ্রাসার এক ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের শিকার হয়েছে । মাদ্রাসার ছাত্রী(১৬) কে আজ সোমবার সকালে প্রচেষ্টা পরিবহনের হেলপারের ভাড়াবাসা পৌরসদরের কাপুড়িয়া সদরদী গ্ৰাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ । এ ঘটনায় জড়িত প্রচেষ্টা পরিবহনের সুপারভাইজার আসিফ সরদার(২১), হেলপার রাকিব মাতুব্বার ইমন (২৪) ও তার মা লিলি বেগম (৫০) কে আটক করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা কালাম শেখ বাদি হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গা থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ঐ ছাত্রীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারী পরিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়েছে।
ধর্ষিতা ঐ ছাত্রীর দুলাভাই সুমন আহমেদ জানান, আমার শালীকা সহ আমার পরিবার ঢাকা হাজারীবাগে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করি। আমার শালীকা ঢাকা হাজারীবাগ খাদিজাতুল কোবরা নামের একটি মহিলা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে । রোববার বিকেলে আমার শ্বশুরবাড়ি নগরকান্দা যাওয়ার জন্য আমি শালীকাকে ঢাকার বাবু বাজার থেকে প্রচেষ্টা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১১ ৬৪৮৩) একটি বাসে তুলে দেই । তখন বাসের হেলপার ও সুপারভাইজার এর মোবাইল নাম্বারটা নিয়ে রাখি এবং তাকে ভাঙ্গা বাসষ্টান্ডে নামিয়ে দিতে বলি। ২ ঘন্টা পর বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার এবং আমার শালীকার মোবাইল নম্বর গুলো বন্ধ পাই। এরপর শালীকার অপেক্ষায় ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা আমার শ্বশুর সহ বাড়ির লোকজন ও আমি ঢাকা থেকে ভাঙ্গায় ছুটে এসে ঐ প্রচেষ্টা পরিবহনকে খুঁজতে থাকি। আমার শালীকার কোথাও খোঁজ না পেয়ে রাত অনুমান তিনটার সময় ভাঙ্গা থানায় একটি মৌখিক অভিযোগ দেই। এরপর আজ সোমবার সকালে ওই পরিবহনকে সনাক্ত করি এবং সুপারভাইজারকে ধরে পুলিশ হাতে সোপর্দ করি।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ডিউটি অফিসার এসআই জুয়েল জানান, রাত আনুমানিক তিনটার সময় তারা একটা মৌখিক অভিযোগ দেয়। এরপর সকালে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে পুলিশ অভিযানে নামে। সোমবার সকালে ঐ বাসের সুপারভাইজার আসিফ সরদার কে আটক করি। পুলিশ সুপারভাইজারের তথ্য মতে হেলপার রাকিবের বাসায় অভিযান চালিয়ে ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করি। সে সময় মেয়েটির তথ্যমতে ও ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করি । এঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ভাঙ্গা থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা হয়েছে।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক মনির জানান, অপহরণ ও ধর্ষনের অভিযোগ ভাঙ্গা থানায় একটা মামলা দায়ের হয়েছে। ঐ ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়ারুল ইসলাম জানান, রাতে মাদ্রাসা ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মাঠে নামে এবং সকালে ছাত্রীটিকে উদ্ধার সহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা ও মামলার বাদী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার পীরেরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোঃ কালাম শেখ বলেন, আমার এই মেয়েটি ঢাকায় আমার সেজো মেয়ের বাসা থেকে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো । তাকে বাড়িতে আসার জন্য বললে তার দুলাভাই রবিবার দুপুরের পর একটি বাসে তুলে দেয়। আমি ভাঙ্গায় তার জন্য অপেক্ষা করি। আমার মেয়ের মোবাইলটা বন্ধ পাওয়ায় আমি চিন্তিত হয়ে পড়। এরপর আমার মেয়ের আর খোজ পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত অনেক খোঁজাখুঁজি করি। সোমবার সকালে আমার মেয়েকে পুলিশ খুঁজে পায়। আমার মেয়েকে যারা সর্বনাশ করেছে তাদের আমি বিচার চাই।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

জুলাই ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।