• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
Mujib Borsho
Mujib Borsho
অক্সফোর্ডের টিকা কিনতে ৬০০ কোটি টাকা জমা দিচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি প্রতিকী

ভারতে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের অনুমোদন বাংলাদেশের জন্যও সুসংবাদ বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভারতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারত শিগগিরই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করতে চায়। হয়তো আগামী বুধবারের মধ্যেই তা শুরু হবে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিনের ভারতীয় সংস্করণ ‘কোভিশিল্ড’ চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর এটির তিন কোটি ডোজ সংগ্রহের
জন্য গত ৫ নভেম্বর ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই) ও বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে সরকার। ভ্যাকসিনটি ভারতে অনুমোদন পাওয়ায় বাংলাদেশও ভ্যাকসিনপ্রাপ্তির দিকে আরও অগ্রসর হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, রোববার (আজ) ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার জন্য ছয়শ কোটি টাকার বেশি টাকা জমা দেবে ব্যাংকে। বিনিময়ে সেরাম ইনস্টিটিউট একটা ব্যাংক গ্যারান্টি দেবে। অধিদফতর বলছে, ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অগ্রিম টাকা হিসেবে এটা নেবে এবং বাকি টাকা টিকা সরবরাহ শুরু করার পর দেওয়া হবে।
চুক্তির ধারা অনুযায়ী তারা যদি আগামী জুনের মধ্যে টিকা দিতে না পারে তা হলে বাংলাদেশে অগ্রিম এই টাকা ফেরত নেবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ টিকা আনতে পারবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, যেকোনো টিকার দুটি দিক রয়েছে। একটা টিকা দেশে আনা এবং দ্বিতীয় হলো ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, এটার ব্যাপারে আইনি অনেক বাধ্যবাধকতা আছে, অনেক রকম আইন আছে আপনারা জানেন। তবে এটা যাতে সরাসরি ক্রয় করা যায় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার জন্য।
টিকা আনার পর সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইন মেইনটেন করতে হবে। সে জন্য বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করেছে অধিদফতর। বেক্সিমকো জেলা পর্যায়ে যেসব ডিপো রয়েছে কোল্ড চেইন মেইনটেন করার সক্ষমতা আছে সেই জায়গাগুলোতে পৌঁছে দেবে। টিকা দেওয়ার জন্য সারা দেশে ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক কাজ করবেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই কাজ হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিইও) রাব্বুর রেজা বলেন, টিকা ভারত থেকে আনার পর কোল্ড চেইন টঙ্গীতে তাদের দুটি ওয়্যারহাউসে নেওয়া হবে। এরপর সরকার অনুমোদিত ওয়্যারহাউসগুলোতে আমরা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই ডেলিভারির মধ্য দিয়ে বেক্সিমকোর দায়িত্ব শেষ হবে। এরপর শুরু হবে বিতরণ প্রক্রিয়া, যেটি হবে সরকারি ব্যবস্থাপনায়।
চুক্তি অনুযায়ী সেরাম ইনস্টিটিউট ছয় মাসের মধ্যে তিন কোটি টিকা দেবে বাংলাদেশকে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকা আসবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কারা টিকা পাবেন সেটা একটা প্রাথমিক তালিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে করা হয়েছে।
ভারতে অনুমোদন পাওয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন এ বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তো আগে থেকেই ভ্যাকসিন তৈরি করে রেখেছে। ভারত যে অনুমোদন দিল, সেটাকে বলে লিমিটেড পারমিশন। মানে কোনো দেশ যখন দেয়, তখন সেটা হয় লিমিটেড পারমিশন। আর বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা বা এফডিএ যখন দেয়, তখন বলা হয় পারমিশন। তবে এক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় আছে। ইউরোপের সাতটি দেশ রয়েছে, যেই দেশগুলোতে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ গ্রহণ করে থাকে। সেই বিবেচনায় যুক্তরাজ্য যেহেতু অনুমোদন দিয়েছে, তাই বাংলাদেশও সেটা বিবেচনা করতে পারে। আর ভারত থেকে ভ্যাকসিন আসতে এখন আর তো কোনো বাধা নেই। তাই অনুমোদন পেলে আমাদের এখানেও দ্রুত ভ্যাকসিন আসতে পারে বলে আশা করছি।

এদিকে প্রায় ছয় কোটি মানুষের জন্য ভ্যাকসিনের অর্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও অর্ডার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানান, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সর্বোচ্চ ৫ ডলার খরচে পাওয়া যাবে। শনিবার বিকালে মানিকগঞ্জের গড়পাড়া এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক দেশের তুলনায় কম দামে এবং অল্প সময়ে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পাবে। তিনি বলেন. বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন শিগগিরই অনুমোদন দেবে। এ ভ্যাকসিনে পাশর্^প্রতিক্রিয়া কম। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ৩ কোটি ডোজই পাওয়া যাবে, প্রথম চালানে আসবে ৫০ লাখ ডোজ। চলতি মাসেই ভ্যাকসিনের প্রথম চালান আসবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম চালানের ভ্যাকসিন কারা প্রথমে পাবেন, সে বিষয়ে তালিকা প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মডার্না ও ফাইজারের ভ্যাকসিনের তুলনায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি সংরক্ষণ ও পরিবহন সহজ। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে। অন্যদিকে মডার্নার ভ্যাকসিন মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩০ দিনের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে। ফাইজারের ভ্যাকসিনটি মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে এবং একবার উচ্চ তাপমাত্রায় আনা হলে পাঁচ দিনের মধ্যে সেটি ব্যবহার করতে হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা করোনার ভ্যাকসিনটি ডিজাইন করে। এপ্রিলে এটি প্রথম একজন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহৎ আকারে হাজারও স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলানো হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

তারিখ অনুযায়ী খবর

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।